স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচের মাত্র ১০ দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ভিসা পেয়েছেন ইরানের ফুটবলাররা। শুক্রবার হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তার বরাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ইরানের প্রথম ম্যাচ আগামী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। এর আগে ভিসা জটিলতা নিয়ে দলটির বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ও অংশগ্রহণ ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। মেক্সিকোতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আবোলফজল পাসান্দিদেহ বৃহস্পতিবার রাতে জানিয়েছিলেন, তখনও ইরান দল যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পায়নি। তবে পরে হোয়াইট হাউসের ওই কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, রাতের মধ্যেই ভিসা মঞ্জুর করা হয়েছে।
ভিসা জটিলতার কারণে এর আগে ইরান দল তাদের বেস ক্যাম্প অ্যারিজোনা থেকে সরিয়ে মেক্সিকোর তিহুয়ানায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। রোববার ভোরে দলটির তিহুয়ানায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান সময় যতটা সম্ভব কম রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানায় ইরান ফুটবল ফেডারেশন।
২০২৬ বিশ্বকাপে ইরান খেলছে গ্রুপ ‘জি’-তে। প্রথম ম্যাচে ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার পর একই শহরে বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ সিয়াটলে মিসরের বিপক্ষে খেলবে ইরান।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ এবার শুধু ক্রীড়া নয়, কূটনৈতিক আলোচনারও অংশ হয়ে উঠেছে। ১৯৩০ সালে বিশ্বকাপ শুরুর পর এবারই প্রথম কোনো আয়োজক দেশ এমন একটি দলের আতিথ্য দিচ্ছে, যার সঙ্গে তাদের রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইরান দলকে প্রবেশে বাধা দেওয়ার কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রদূত পাসান্দিদেহ। অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছেন, ইরানের বিশ্বকাপ দলে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির অনুমতি দেওয়া হবে না।
এর আগে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ড্রতে অংশ নিতে ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ প্রবেশের অনুমতি পাননি বলে জানা যায়। তিনি রেভল্যুশনারি গার্ডসের সাবেক কমান্ডার ছিলেন।
রাষ্ট্রদূত পাসান্দিদেহ মনে করেন, রাজনৈতিক জটিলতার মধ্যেও বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ শান্তির বার্তা বহন করছে। মেক্সিকো সিটিতে ইরানি দূতাবাসে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, শত্রু হিসেবে বিবেচিত দেশের মাটিতেও বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া প্রমাণ করে ইরান শান্তি ও সংলাপের পক্ষে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি