রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ভারতে আবারও বাড়ানো হয়েছে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ৩ রুপি করে বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে দেশজুড়ে জ্বালানি তেল কিনতে এখন থেকে ভোক্তাদের গুনতে হবে বাড়তি অর্থ।
দীর্ঘদিন ধরেই দেশটিতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। অবশেষে সেই আশঙ্কাই বাস্তবে রূপ নিল। ভারতজুড়ে একযোগে পেট্রোল ও ডিজেলের নতুন দাম কার্যকর করা হয়েছে।
নতুন মূল্য অনুযায়ী, কলকাতায় প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৮ দশমিক ৭৪ রুপি এবং ডিজেলের দাম হয়েছে ৯৫ দশমিক ১৩ রুপি।
রাজধানী দিল্লিতে পেট্রোলের দাম বেড়ে হয়েছে ৯৭ দশমিক ৭৭ রুপি এবং ডিজেলের দাম দাঁড়িয়েছে ৯০ দশমিক ৬৭ রুপি। একই সঙ্গে দিল্লিতে সিএনজির দামও লিটারপ্রতি ২ রুপি বাড়ানো হয়েছে। ফলে সিএনজির নতুন দাম হয়েছে ৮৭ রুপি।
অন্যদিকে মুম্বাইয়ে পেট্রোলের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৬ দশমিক ৬৮ রুপি এবং ডিজেলের দাম হয়েছে ৯৩ দশমিক ১৪ রুপি।
চেন্নাইতেও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। সেখানে প্রতি লিটার পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে ১০৩ দশমিক ৬৭ রুপিতে এবং ডিজেলের দাম হয়েছে ৯৫ দশমিক ২৫ রুপি।
তেলের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে দেশটির তেল কোম্পানিগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু না বললেও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়াই এর প্রধান কারণ।
বিশ্ববাজারে বর্তমানে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। এর ফলে ভারতীয় তেল কোম্পানিগুলোকে বাড়তি দামে তেল আমদানি করতে হচ্ছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম অপরিবর্তিত থাকায় বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছিল সংস্থাগুলো।
এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি অনিবার্য হয়ে উঠেছিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi দেশবাসীকে পেট্রোল ও ডিজেলের ব্যবহার কমানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি অনেক প্রতিষ্ঠানকে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ ব্যবস্থা চালুর পরামর্শও দেন। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে কর্মীদের বাসা থেকে কাজ করার সুযোগ দিয়েছে।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী নিজেও সরকারি গাড়িবহরের সংখ্যা কমানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। তার আহ্বানের পর বিভিন্ন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও জ্বালানি সাশ্রয়ে গাড়ি ব্যবহারে কাটছাঁট শুরু করেছে।
তবে নতুন এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বাস, ট্যাক্সি ও পণ্য পরিবহন খরচ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও খাদ্যদ্রব্যের বাজারেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম