রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকায় চাপে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। ডিমের দামের ঊর্ধ্বগতির পর এবার বেড়েছে পেঁয়াজ ও আদার দাম। একই সঙ্গে সবজির বাজারেও নেই স্বস্তি। সামান্য বৃষ্টি হলেই বাড়ছে দাম, ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে।
শুক্রবার (১৫ মে) সকালে ঢাকার বিভিন্ন খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। কোনো কোনো এলাকায় এ দাম ১৫৫ টাকাও ছাড়িয়েছে। মাত্র এক সপ্তাহ আগেও ডজনপ্রতি ডিমের দাম ছিল ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা।
এদিকে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি বেড়েছে অন্তত ১০ টাকা। বর্তমানে বাজারে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা।
একই সঙ্গে বেড়েছে আদার দামও। বাজারে প্রতি কেজি আদা বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৯০ টাকায়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, কেজিপ্রতি আদার দাম বেড়েছে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত।
ব্যবসায়ীদের দাবি, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে চাহিদা বাড়ায় পেঁয়াজ ও আদার বাজারে এ ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, বাড়তি চাহিদার সুযোগ নিয়ে মধ্যস্বত্বভোগীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার অস্থির করে তুলছেন।
বড় মগবাজার বাজারের খুচরা বিক্রেতা বিদ্যুৎ বলেন, পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার কারণে খুচরা পর্যায়েও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তার ভাষায়, “প্রতিদিন পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজিতে এক-দুই টাকা করে বাড়ছে।”
অন্যদিকে বাজারে দেশি রসুনের সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকায় এ পণ্যের দাম এখনো স্থিতিশীল রয়েছে। সবজির বাজারেও স্বস্তি নেই। বর্তমানে ৭০ থেকে ৮০ টাকার নিচে প্রায় কোনো সবজি মিলছে না। সবচেয়ে কম দামের সবজি পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়।
বাজারভেদে বেগুনের দাম কেজিপ্রতি ৯০ থেকে ১২০ টাকা। এছাড়া ঢ্যাঁড়স, চিচিঙ্গা, ধুন্দল ও ঝিঙে বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। করলা, বরবটি ও কাকরোলের দাম আরও বেশি, যা প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
তবে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে মুরগির বাজারে। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৮৫ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ভোক্তাদের অভিযোগ, রমজানের ঈদের সময় দাম বাড়াতে ব্যর্থ হয়ে এখন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বাজারে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে অসাধু চক্র।
রাজধানীর এক ক্রেতা এনামুল হোসেন বলেন, “সরবরাহ ঘাটতি বা নানা অজুহাত দেখিয়ে দাম বাড়ানো এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। সরকার যদি কঠোরভাবে বাজার মনিটরিং করতো, তাহলে ব্যবসায়ীরা এভাবে দাম বাড়ানোর সাহস পেত না।”
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কার্যকর তদারকি ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা না আনলে ঈদের আগে নিত্যপণ্যের বাজার আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম