চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি: পাবনার চাটমোহরে পাকা ও আধাপাকা বোরো ধান কাটা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা। কৃষিশ্রমিক সংকট, ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা এবং বাজারে কম দামে ধান বিক্রি—সব মিলিয়ে লোকসানের মুখে পড়েছেন তারা।
উপজেলা জুড়ে ইতোমধ্যেই আগাম জাতের বোরো ধান কাটার ধুম পড়েছে। বিল ও মাঠ থেকে দ্রুত ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। তবে শ্রমিক সংকটের কারণে ধান কাটা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে শ্রমিকের দৈনিক মজুরি বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০০০ টাকা পর্যন্ত।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, বাজারে বর্তমানে ধান বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ ১,০০০ থেকে ১,১০০ টাকায়, যেখানে সরকার নির্ধারিত মূল্য ১,৪৪০ টাকা। এতে বাধ্য হয়েই কম দামে ধান বিক্রি করে শ্রমিকের মজুরি মেটাতে হচ্ছে তাদের।
কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রম ৩ মে থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি। ফলে মধ্যস্বত্বভোগী ফড়িয়ারা কৃষকের কাছ থেকে কম দামে ধান কিনে মজুত করছে।
চাটমোহর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আলাওল কবির বলেন, “ধান সংগ্রহ শুরু হয়েছে। কৃষক ধান দিলেই আমরা গ্রহণ করবো। এবার উপজেলায় ১,০০৭ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অ্যাপসের মাধ্যমে বা আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে প্রকৃত কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হবে।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কৃন্তলা ঘোষ জানান, এ বছর উপজেলায় ৯,২০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে কৃষকেরা বলছেন, সময়মতো শ্রমিক সংকট ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হলে ভালো ফলনেও তারা লোকসানের মুখে পড়বেন।
রিপোর্টার্স/এসএন