ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: সরকারের সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের সমালোচনা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, “সরকার এই সমস্ত আচরণের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের পথে যে তিনি হাটছেন না, খানিকটা কর্তৃত্ববাদী, একদলীয় পথে হাটছেন সেটাই কিন্তু ধীরে ধীরে ওনারা প্রমাণ দিচ্ছেন।
শনিবার (৯মে) ঠাকুরগাঁও মানবকল্যাণ পরিষদে সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময়কালে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ওনারা (বিএনপি) ক্ষমতায় এসে পার্লামেন্ট শুরু হওয়ার আগেই সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নিযুক্ত করে বড় অন্যায় করেছেন। এটি চরমভাবে গণতন্ত্র ও সংবিধান বিরোধী একটি কাজ। আমাদের সংবিধানে পরিষ্কারভাবে বলা আছে, স্থানীয় সরকারের প্রতিটি স্তরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি আরও বলেন, সরকার এসে একটি ইলেক্টেড গভর্মেন্ট (নির্বাচিত সরকার) হয়েও যেখানে ইলেক্টেড রিপ্রেজেন্টেটিভ দিয়ে লোকাল গভর্মেন্ট চলার কথা, সেখানে ওনারা সিলেক্টেড (মনোনীত) লোক বসিয়ে দিয়েছেন। আর এই সিলেকশনটা হয়েছে দলীয় ভিত্তিতে; সব প্রশাসকই দলীয় লোক।
জামায়াত নেতা প্রশ্ন তোলেন, “সবার আগে বাংলাদেশ, সবাইকে নিয়ে নাকি বাংলাদেশ? প্রধানমন্ত্রীকে আমরা বলেছি বিএনপি ছাড়া আর কি কোন দল পাইলেন না? কয়টা কর্পোরেশনে উনি প্রশাসক দিলেন, সব কয়টাই বিএনপির। দরকারটা কী ছিল এটা দেওয়ার? এর আগে যারা ছিলেন তারাও তো প্রশাসক ছিলেন। আপনি দিলে ইলেকশন দিয়ে দেন। এটা আপনার অধিকার কিন্তু ইলেকশন দিলেন না।
তিনি সরকারকে এই ‘ব্যাট কালচার’ (মন্দ সংস্কৃতি) থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে স্থানীয় সরকারের নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করুন। সেই নির্বাচন নিরপেক্ষ হলে জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী দল আমরা সেই নির্বাচনে ইনশাআল্লাহ অংশগ্রহণ করব।
গণভোটের রায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের ৭০ ভাগ মানুষ ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে 'হ্যাঁ' ভোট দিয়েছেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যারা এখন পার্লামেন্টে উল্টো কথা বলছেন, তারাও 'হ্যাঁ' ভোট দিয়েছিলেন। 'হ্যাঁ' ভোট দেওয়ার অর্থ হলো কোনো দ্বিমত ছাড়াই (উইদাউট এনি নোট অফ ডিসেন্ট) সমস্ত সংস্কার মেনে নেওয়া।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, জুলাই সনদে ওনারা গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ব্যাপারে যে ৮-১০টি 'নোট অফ ডিসেন্ট' দিয়েছেন, সেটি বইতে লেখা আছে। ওনারা জুলাই সনদ মানবেন অর্থ হলো ওই 'নোট অফ ডিসেন্ট' সহ মানবেন। এতে দেশের সাংবিধানিক সংস্কারে বড় কোনো পরিবর্তন হবে না, বরং দেশ মৌলিক কর্তৃত্ববাদী শাসনের দিকে যাবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, আমরা বলছি গণভোটের রায়টা বাস্তবায়ন করতে হবে। খেয়াল করে দেখবেন, সরকারি দলের নেতা বা মন্ত্রীরা কখনো বলেন না যে গণভোটের রায় অক্ষরে অক্ষরে পালন করবেন। ওনারা জুলাই সনদ বলেন, কারণ জুলাই সনদে তো 'নোট অফ ডিসেন্ট' আছে, কিন্তু গণভোটে কোনো 'নোট অফ ডিসেন্ট' নেই।
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন দলটির সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন প্রধান প্রমুখ।
রিপোর্টার্স২৪/মিতু