প্রিন্ট এর তারিখঃ | বঙ্গাব্দ || প্রকাশের তারিখঃ 08-05-2026 ইং
সংবাদ শিরোনামঃ রংপুরে ১ হাজার কোটি টাকার আলু ফেলে দিয়েছে কৃষক
রিপোর্টার্স ডেস্ক: রংপুরে এবছন আলুর ভালো ফলন হলেও মন ভালো নেই চাষিদের। ভরা মৌসুমে আলুর মূল্যধসে চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন তারা। শুরু হয়েছে পচন। এ পরিস্থিতিতে উপায় না পেয়ে অনেকেই রাস্তায় আলু ফেলে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
চাষিরা বলছেন, উৎপাদন খরচ কেজি প্রতি ১৩ থেকে ১৫ টাকা হলেও বর্তমানে আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭ থেকে ৯ টাকায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হিমাগার ভাড়া বৃদ্ধির চাপ। এ কারণে অনেক কৃষক আলু সংরক্ষণ না করে বাড়িতে রেখে দিলেও যার বড় অংশ পচে নষ্ট হচ্ছে। ফলে বর্তমান বাজারে আলু বিক্রি করে উৎপাদন খরচ তো দূরে থাক, হিমাগার ভাড়া ও পরিবহন খরচ তোলাও দায় হয়ে পড়েছে।
গঙ্গাচড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের চেংমারী গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান জানান, তিনি প্রায় ৩০০ শতক জমিতে আলু চাষ করেছিলেন। শুরুতে পাইকারেরা তিন-চার টাকা কেজি দর প্রস্তাব করায় তিনি আলু ঘরে তুলে রাখেন। কিন্তু সংরক্ষণের অভাবে আলুতে পচন ধরে। শেষপর্যন্ত প্রায় ৫০ বস্তা আলু ফেলে দিতে বাধ্য হয়েছেন।
রংপুর অঞ্চলে আলুর বাম্পার ফলন হলেও ভরা মৌসুমে চরম মূল্যধসে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। প্রতি কেজি আলুর উৎপাদন খরচ ১৩-১৫ টাকা হলেও বর্তমানে তা মাত্র ৬-৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা, হিমাগার ভাড়া ও পরিবহন খরচ তোলাও অসম্ভব হয়ে পড়েছে। লোকসান কমাতে অনেক কৃষক রাস্তায় আলু ফেলে দিতে বাধ্য হচ্ছেন
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে রংপুরে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আলুর উৎপাদন হয়েছে ১৬ লাখ ৫ হাজার ২৫ মেট্রিক টন। যার গড় উৎপাদন খরচ কেজি প্রতি ১৩ থেকে ১৫ টাকা। অথচ বর্তমান বাজার মূল্য ৭ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কেজিতে কৃষকের লোকসান ৬ থেকে ৮ টাকা। এমন বাস্তবতায় কৃষকের ন্যূনতম কেজিতে ৬ টাকা লোকসান হলে উৎপাদন খরচ অনুযায়ী মোট লোকসান হয় প্রায় ৯৬৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ শুধু মূল্য ধসেই রংপুর অঞ্চলে আলুতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।
এই ক্ষতির চিত্র আরও গভীর করে তুলেছে হিমাগার ভাড়া বৃদ্ধির কারণে। এছাড়া হারভেস্ট মৌসুমে বৈরী আবহাওয়ার কারণে ঘরে মজুত করা আলুতেও ধরেছে পচন। যেন মরার উপর খারার ঘা হয়ে অনেক কৃষকের লোকসানের মাত্রা গিয়ে দাঁড়িয়েছে উৎপাদন খরচের সমান।