রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: রাজধানীতে ছোট আকারের ‘মিনি ল্যাব’ ব্যবহার করে ভয়ংকর ধরনের মাদক উৎপাদন ও আন্তর্জাতিক পাচারের চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, চিকিৎসায় ব্যবহৃত কেটামিন অবৈধভাবে প্রক্রিয়াজাত করে কোকেন সদৃশ পাউডারে রূপান্তর করা হচ্ছিল, যা পরবর্তীতে মাদক হিসেবে বাজারজাত করা হয়।
তদন্ত সূত্র জানায়, চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া ব্যবহার নিষিদ্ধ এই কেটামিন ডার্ক ওয়েবের মাধ্যমে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা হতো। লেনদেনে ব্যবহার করা হতো ক্রিপ্টোকারেন্সি। পরে এসব মাদক কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে মালয়েশিয়া, দুবাই ও শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করা হতো।
ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মেহেদী হাসান জানান, সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে একাধিক অপ্রচলিত মাদক উৎপাদন ল্যাবের সন্ধান পাওয়া গেছে। এসবের মধ্যে রয়েছে নতুন ধরনের ইয়াবা উৎপাদন, কুশ চাষ এবং ভেজাল মদ তৈরির কারখানা।
গত ফেব্রুয়ারিতে গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবা তৈরির একটি কারখানা উদ্ধার করে ডিএনসি। সেখানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও কাঁচামাল জব্দ করা হয় এবং তোহিদুজ্জামান ওরফে শিমুল নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, আয়ুর্বেদিক ল্যাবে কাজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি নিজেই ইয়াবা উৎপাদনের প্রক্রিয়া শিখেছিলেন এবং পরে তা ব্যবসায় রূপ দেন।
অন্যদিকে রাজধানীর ওয়ারীতে পৃথক অভিযানে কুশ চাষের একটি ল্যাবের সন্ধান পাওয়া যায়। অভিযোগ রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী এক ব্যক্তি প্রযুক্তির মাধ্যমে এই ল্যাব পরিচালনা করতেন। সেখানে বিশেষ আলো, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করে গাছ চাষ করা হতো।
এ ছাড়া বসুন্ধরা ও ভাটারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভেজাল মদ তৈরির দুটি কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে। সেখানে বিদেশি মদের বোতলে রাসায়নিক মিশিয়ে পুনরায় বাজারজাত করা হতো।
ডিএনসির মহাপরিচালক হাসান মারুফ বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে অপরাধীরা এখন আরও সংগঠিতভাবে মাদক উৎপাদন ও পাচার করছে। বিদেশি চক্রও এতে যুক্ত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম