রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: দেশে জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও ড. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, তেল আছে শুধু সংসদে। সংসদে সরকারি দলের মন্ত্রী-এমপিদের কথা শুনলে মনে হয় দেশ তেলের ওপর ভাসছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের কৃষিতে বিশ্ব জ্বালানি সংকটের প্রভাব: উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে এগ্রিকালচারিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ।
তিনি অভিযোগ করেন, বাস্তবে সাধারণ মানুষ জ্বালানির জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও প্রয়োজনীয় তেল পাচ্ছে না। অথচ সংসদে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে।
সংসদীয় গণতন্ত্র নিয়ে মন্তব্য করে তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থে আইন প্রণয়নই হওয়া উচিত সংসদের মূল লক্ষ্য, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। তিনি আরও দাবি করেন, এখনো পর্যন্ত সংসদ থেকে জাতির জন্য কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি।
দেশের সামগ্রিক ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন খাতে “গোঁজামিল” চলছে এবং ক্যাশ না থাকলেও খাতায় লাভ দেখানো হচ্ছে। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে মেধাভিত্তিক সমাজ গঠনের আহ্বান জানান তিনি।
কৃষি খাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, যা খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। তার ভাষায়, কৃষি বাঁচলে দেশ বাঁচবে।
তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় অন্তত ৬০ থেকে ৯০ দিনের বাফার স্টক গড়ে তুলতে হবে এবং সোলারসহ বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে এগোতে হবে। পাশাপাশি তিনি সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ারও দাবি জানান।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধে জানানো হয়, দেশের মোট জ্বালানির প্রায় ১৮ শতাংশ কৃষি খাতে ব্যবহৃত হয়। বর্তমান সংকটে বোরো মৌসুমে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম