আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধের খরচ বহন করতে আরব দেশগুলোর ওপর চাপ দেওয়ার চিন্তা করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প; এমন ইঙ্গিত দিয়েছে হোয়াইট হাউস। এই ধারণা নতুন নয়; অতীতেও বিভিন্ন সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে অর্থনৈতিক সহায়তা নিয়েছে বা চাপ প্রয়োগ করেছে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জানান, ট্রাম্প মনে করেন,যেসব দেশ হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে জ্বালানি রপ্তানির ওপর বেশি নির্ভরশীল, তাদেরই এই যুদ্ধের আর্থিক বোঝা বহন করা উচিত।
বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত গ্যাস এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধের কারণে এটি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৬ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
তবে ইরান বলছে, যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকেই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
উল্লেখ করা যেতে পারে, উপসাগরীয় যুদ্ধ
১.যুক্তরাষ্ট্র ১৯৯০–১৯৯১ সালে উপসাগরীয় যুদ্ধে সরাসরি নেতৃত্ব দিলেও বেশিরভাগ খরচ বহন করে মিত্ররা।
উপসাগরীয় যুদ্ধ এমন একটি উদাহরণ, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের মোট খরচ: প্রায় ৬১ বিলিয়ন ডলার।এর ৮৮% দেয় কুয়েত, সৌদি আরব, জাপান, জার্মানি ও সংযুক্ত আরব আমিরাত;যুক্তরাষ্ট্র নিজে দেয় মাত্র ১২%।
এই মডেলটি অনেক বিশ্লেষকের মতে বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সবচেয়ে বেশি মিল রাখে।
২. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপ পুনর্গঠনে মার্শাল প্ল্যান চালু করে, যেখানে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়া হয়।অন্যদিকে, জাপান ও জার্মানি যুদ্ধক্ষতিপূরণ দেয়; আজও তারা মার্কিন সামরিক ঘাঁটির ব্যয় বহন করে (প্রতি বছর বিলিয়ন ডলার)।এটি সরাসরি যুদ্ধ ব্যয় না হলেও দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক দায় স্থানান্তরের উদাহরণ।
৩. ইউক্রেন যুদ্ধ (২০২২–বর্তমান)
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র বড় সহায়তাকারী ছিল। ২০২২–২০২৫ সারে এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র দেয় প্রায় ১৩৪ বিলিয়ন ডলার,পরে ট্রাম্প প্রশাসন প্রায় সব সহায়তা বন্ধ করে দেয়। এরপর ইউরোপীয় দেশগুলোকে বেশি ব্যয় বহনে চাপ দেওয়া হয়; যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্র বিক্রির মাধ্যমে অর্থ পুনরুদ্ধারের পথে যায়।
৪.
বর্তমান বাস্তবতা: ইরান যুদ্ধ
বর্তমান ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধে এখনো মোট ব্যয়ের নির্দিষ্ট হিসাব নেই, তবে বিশ্লেষকদের মতে এটি “দশক বিলিয়ন ডলার” ছাড়াতে পারে।তবে পার্থক্য হলো,উপসাগরীয় যুদ্ধের মতো এবার আরব দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধ করতে বলেনি বরং তারা যুদ্ধ এড়াতে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে ছিল।
বিশ্লেষকদের মতে,যুক্তরাষ্ট্র যদি আরব দেশগুলোর ওপর খরচ চাপায়, তা রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত হবে।কেউ কেউ বলছেন, এই যুদ্ধের খরচ বহন করা উচিত ইসরাইলের; কারণ তারাই যুক্তরাষ্ট্রকে এতে জড়িয়েছে।
ইতিহাস বলছে, যুক্তরাষ্ট্র প্রায়ই যুদ্ধের খরচ এককভাবে বহন করে না বরং মিত্রদের সঙ্গে ভাগ করে নেয় বা তাদের ওপর চাপায়। ইরান যুদ্ধেও সেই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে, তবে বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় এটি কতটা কার্যকর হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। আলজাজিরা
রিপোর্টার্স২৪/এসসি