নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর বদলগাছীতে মহসিন আলী নামে এক ব্যাক্তিকে জমিজমা নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে শিশু ধর্ষণ মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে।
গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করেন। অভিযুক্ত ভুক্তভোগী মহসিন আলী উপজেলার ভগবানপুর গ্রামের মৃত মছির উদ্দিনের ছেলে।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় একটি পক্ষের সঙ্গে তাদের জমিজমা ও পারিবারিক বিরোধ চলছিল। ঘটনার একদিন পূর্বে মহসিনের বড় ভাই জমিজমা বিষয়ে আদালতে মামলা ও বদলগাছী থানাতে একটি অভিযোগ করেন। ঔই মাামলা ও অভিযোগের মূল সাক্ষী ছিলেন মহসিন আলী। মামলার পর দিন পুলিশ এসে মহসিনকে ধরে নিয়ে যায় এবং প্রতিবশীর ১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করে।
মহসিনের পরিবারের অভিযোগ, জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষ তাকে ফাঁসাতে শিশু ধর্ষণের মতো গুরুত্বর অভিযোগ এনে মামলা করেছে। থানা পুলিশ কোন তদন্ত ছাড়াই মামলা নথিভুক্ত করে তাকে গ্রেপ্তার করেছে।
এ ধরনের গুরুত্ব মামলায় তাদের পরিবারকে চরম সামাজিক ও মানসিক সংকটে ফেলেছে। অবিলম্বে তাকে জামিনে মুক্তির দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃৃত ঘটনার সত্যতা যাচাই করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
ভুক্তভোগীর স্ত্রী আলেয়া বেগম বলেন, জমি নিয়ে একদিন আগে আমারা থানায় অভিযোগ করি। এই অভিযোগের একদিন পর আমার স্বামীকে ধরে নিয়ে গিয়ে কোন তদন্ত ছাড়াই ধর্ষণ মামলায় জড়িয়ে দেয়া হয়। ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলায় আমার স্বামীকে ফাঁসানো হয়েছে। যাদের সঙ্গে আমাদের জমিজমা নিয়ে দন্ড চলছে তাদের এক আত্বীয় পুলিশ সুপার। সেকানের ক্ষমতার দাপটে আমার স্বামীকে এরকম গুরুত্ব একটি মামলায় ফাঁসিয়েছে। আমি আমার স্বামীর দ্রুত জামিনসহ উচ্চতর ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবী জানাচ্ছি।
স্থানীয় ভাগবানপুর গ্রামের বাসিন্দা ও উভয়ের প্রতিবেশী মরিয়ম, জোলেখা,মর্জিনা, আনোয়ারা, হাশেম,সুমনসহ একাধীক ব্যাক্তির সঙ্গে আলাপ করলে তারা জানান যে, আমরা একই গ্রামে বসবাস করি মহসিনকে কোন দিন কোন মেয়ে দিকে ক্রদৃষ্টিতে তাকাতে দেখিন। তার ছেলে-মেয়ের বিয়ে হয়েছে। তারা সকলে চাকরি করে। নাতি-নাতনি আছে। মোটেও তিনি ধর্ষণের মত এমন কাজে যুক্ত নয়। তাকে ফাঁসানো হয়েছে। সঠিক তদন্ত হলে সব বেরিয়ে আসবে। সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃৃত সত্য উদঘাটনের জন্য তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান।
ধর্ষণ মামলায় সাক্ষী ও ভিকটিমের ফুফু বন্যা আক্তার বলেন, আমার ভাতিজি নাবালিকা মেয়ে। তাকে কৌশলে মহসিন তার গভীর নলকূপের ঘরে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে। এই ঘটনার সঙ্গে জমিজমা বিরোধী কোন সর্ম্পক নেই। আমি এই ধর্ষণের ন্যায় বিচার চাই।
বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লুৎফর রহমান জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। অভিযোগটি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রিপোর্টার্স২৪/মিতু