আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার পর ইরানের পাশে হুতি বাহিনীও যুদ্ধে প্রবেশ করেছে, যা সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করেছে এবং বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বিপজ্জনক প্রভাব ফেলছে।
পাকিস্তান সোমবার মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর বৈঠক আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে, তবে এতে মূল যোদ্ধা পক্ষের কোনো প্রতিনিধি নেই। ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক অগ্রগতির দাবিতে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
হুতি বাহিনী বলেছে, তারা “ইসরায়েলের সংবেদনশীল সামরিক স্থাপনা” লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে এবং আগ্রাসন শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামলা চালাবে। ইসরায়েল জানিয়েছে, ইয়েমেন থেকে আসা একটি ক্ষেপণাস্ত্র তারা ধ্বংস করতে পেরেছে। রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, মার্কিন গোয়েন্দা সূত্র অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র কেবল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন শক্তির প্রায় এক তৃতীয়াংশ ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে।
সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ারবেসে একটি হামলায় কমপক্ষে ১২ মার্কিন সেনা আহত হয়েছে। কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রাডার ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হুতি বাহিনীর পদক্ষেপ রেড সি-র বাব আল-মানদাব প্রণালীর জন্য সরাসরি হুমকি, যা মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি ও বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পথ। ইরানের হরমুজ প্রণালী প্রায় বন্ধ থাকায়, যদি বাব আল-মানদাবও অবরুদ্ধ হয়, বিশ্ব অর্থনীতিতে আরও প্রভাব পড়বে।
চ্যাথাম হাউসের গবেষক ফারিয়া আল-মুসলিমি সতর্ক করেছেন, হুতি বাহিনী যদি বৃহত্তর সংঘাতে অংশ নেয়, তা গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সামুদ্রিক পথ এবং অর্থনৈতিক ও সামরিক অবকাঠামো ঝুঁকির মুখে ফেলবে।
ইরানও উত্তেজনা বাড়াচ্ছে। তাদের কেন্দ্রিয় কমান্ড জানিয়েছে, তারা দুবাইয়ে একটি ইউক্রেনিয়ান প্রতিড্রোন সিস্টেমের ডিপোকে লক্ষ্য করেছে। ইউক্রেন সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের সঙ্গে সামরিক চুক্তি করেছে এবং সৌদি আরবের সঙ্গে একই ধরনের চুক্তি রয়েছে।
যুদ্ধের বিস্তার ও অস্ত্র ব্যবহারের তীব্রতা বাড়ছে। মার্কিন সামরিক সূত্র বলছে, তারা ক্লাস্টার মিউনিশন ব্যবহার করছে, যা অনেক দেশ দ্বারা নিষিদ্ধ। ইরানও ইসরায়েলে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে ক্লাস্টার হেড ব্যবহার করছে।
পাকিস্তান শান্তিচুক্তির প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিন মুনির ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে আলোচনা করছেন। তবে মূল যোদ্ধা পক্ষের অংশগ্রহণ ছাড়া বৈঠকের কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবকে যুক্ত করে আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পরিকল্পনা করছেন। একই সময়ে মার্কিন মেরিন ও এয়ারবর্ন ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে, যা ইরানের খার্গ দ্বীপ বা হরমুজ প্রণালীর দ্বীপে স্থল হামলার সম্ভাবনা বাড়াচ্ছে।
ফারিয়া আল-মুসলিমি সতর্ক করেছেন, যদি সৌদি-হুতি বা মার্কিন-ইরান সংঘাত আরও তীব্র হয়, তা পূর্বের যেকোনও যুদ্ধের চেয়ে ধ্বংসাত্মক হতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি সূত্র: দা গার্ডিয়ান