আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে হিজবুল্লাহ-এর ওপর ইসরায়েলের হামলা বন্ধের বিষয়টিও চুক্তির শর্ত হিসেবে তুলে ধরেছে তেহরান—এমনটাই জানিয়েছে বিষয়টি জানা একাধিক আঞ্চলিক সূত্র।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির বরাতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো চুক্তিতে শুধু ইরান নয়, বরং অঞ্চলজুড়ে তাদের মিত্র ‘রেজিস্ট্যান্স গ্রুপ’-গুলোর ওপর চলমান যুদ্ধ বন্ধের নিশ্চয়তা চায় তেহরান।
এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, প্রায় এক মাস ধরে চলা আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব এখনও পর্যালোচনা করছে ইরান। তবে তারা এখনো প্রস্তাবটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেনি।
সূত্রগুলো জানায়, মার্চের মাঝামাঝি থেকেই মধ্যস্থতাকারীদের কাছে ইরান পরিষ্কার করেছে—যে কোনো চুক্তিতে লেবাননে ইসরায়েলের হামলা বন্ধ থাকতে হবে। ১৯৮২ সালে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসের সহায়তায় গঠিত হিজবুল্লাহকে তেহরানের আঞ্চলিক জোটের প্রধান শক্তি হিসেবে দেখা হয়।
মার্চের ২ তারিখে ইরানের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইসরায়েলে হামলা চালায় হিজবুল্লাহ, যার জেরে লেবাননে ইসরায়েলের বিমান ও স্থল অভিযান শুরু হয়।
এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ইরানের ‘প্রক্সি তৎপরতা’ বন্ধ এবং হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা অঞ্চলজুড়ে স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে একটি সূত্র জানিয়েছে, সম্ভাব্য বৃহত্তর চুক্তিতে নিজেদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে হিজবুল্লাহ ‘ইরানের নিশ্চয়তা’ পেয়েছে। ইরান লেবাননের বিষয়ে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং ২০২৪ সালের যুদ্ধবিরতির পরের মতো ইসরায়েলের হামলা আর মেনে নেবে না।
লেবাননের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও এর প্রভাব পড়েছে। নতুন সরকার হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার দাবি জানানোয় দেশটির অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা বেড়েছে।
অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনায় নেই এবং হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।
লেবাননের কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় দেশটিতে এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি সূত্র: রয়টার্স