নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: ব্রহ্মপুত্র নদে চলছে ‘পাপমুক্তির’ মহাৎসব, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ‘মহাঅষ্টমী স্নান’। প্রতিবছরের ন্যায় দেশ-বিদেশের লাখ লাখ পুণ্যার্থী স্নানোৎসবে অংশগ্রহণ করতে সমবেত হয়েছেন নারায়ণগঞ্জ বন্দর উপজেলার লাঙ্গলবন্দে। তাদের বিশ্বাস, শুক্লা অষ্টমী তিথিতে ব্রহ্মপুত্রে স্নানের মাধ্যমে পাপমোচন ঘটে এবং ব্রহ্মার সন্তুষ্টি লাভ করা যায়।
বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে তিথি শুরুর সঙ্গে সঙ্গে ‘হে মহাভাগ ব্রহ্মপুত্র, হে লৌহিত্য, আমার পাপ হরণ করো’ মন্ত্র উচ্চারণ করে লাঙ্গলবন্দের ২৪টি ঘাটে স্নান শুরু করেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। যা শেষ হবে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ৫৯ মিনিটে।
এর আগে সকাল থেকে লাঙ্গলবন্দের বিভিন্ন মন্দির ও আশ্রমে ভিড় করতে থাকেন পুণ্যার্থীরা। স্নানোৎসবকে কেন্দ্র করে লাঙ্গলবন্দের তিন কিলোমিটারজুড়ে বসেছে ঐতিহাসিক বারোয়ারি মেলা। মেলায় ত্রিশূল হাতে দুই শিশুকে দেখা যায় শিবের সাজে। অনেক পুণ্যার্থীকে তাদের কাছ থেকে আশীর্বাদ নিতেও দেখা যায়।
পৌরাণিক বর্ণনা মতে, ত্রেতা যুগে মুনি পরশুরাম পিতার আদেশে তাঁর মায়ের শিরচ্ছেদ করেন। মাতৃহত্যার পাপের কারণে তাঁর কুঠারটি হাতে লেগে যায়। পরে শিবের তপস্যার মাধ্যমে হিমালয়ের মানস সরোবর থেকে উৎপন্ন নদীতে চৈত্র মাসের অষ্টমী তিথিতে স্নান করে পাপমুক্ত হন। সেই পুণ্য বারিধারা সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করতে পরশুরাম লাঙ্গল দিয়ে সেই জলধারা নিয়ে আসেন। তাঁর লাঙ্গল যেখানে এসে বন্ধ হয়, সেই স্থানটির নাম হয় ‘লাঙ্গলবন্দ’।
সেই থেকে শত শত বছর ধরে এই ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে ‘পাপমুক্তির’ আশায় দেশ-বিদেশের লাখো সনাতন ধর্মাবলম্বী স্নানোৎসবে সমবেত হয়ে আসছেন।
স্নানোৎসব, পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা ও সার্বিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতের লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন। এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, লাঙ্গলবন্দ পুণ্যস্থানে আমাদের পর্যাপ্ত পুলিশি ব্যবস্থা রয়েছে। সকাল আটটা থেকে আমাদের ফোর্স ডিপ্লয়মেন্ট করা হয়েছে। সিসিটিভি, ওয়াচ টাওয়ার এবং একটি কন্ট্রোল রুম রয়েছে। প্রত্যেকটি ঘাটে আমাদের পুলিশ রয়েছে, যাতে কেউ টিকটকার বা পকেটমারের শিকার না হন। আমাদের ট্রাফিক ব্যবস্থা ঢাকা-হাইওয়ে সড়কে সার্বিকভাবে কাজ করছে।
জেলা প্রশাসক রায়হান কবির বলেন, প্রচুর জনসমাগম হয়েছে। আমাদের ২৪টি ঘাটে পুণ্যার্থীরা স্নান করছেন। এবার চারটি নতুন ঘাট নির্মাণ করা হয়েছে এবং প্রতিটি ঘাটে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা হয়েছে। যেখানে নাব্যতা বেশি, সেখানে বালির বস্তা ফেলে গোসলের উপযোগী করা হয়েছে। প্রচুর পানা পরিষ্কার করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস, নৌ পুলিশ এবং কোস্টগার্ড টহলে রয়েছে যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে বা কারো কোনো অসুবিধা হয়, তাৎক্ষণিকভাবে তারা কাজ করবে।
তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১১০০ সদস্য মোতায়েন আছে। একই সঙ্গে আমাদের ৬০০ জন সদস্য, পূজা উদযাপন পরিষদের প্রচুর স্বেচ্ছাসেবক এবং স্থানীয় বিএনপির ২৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন। ম্যাজিস্ট্রেট এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল রয়েছে। সব ধরনের প্রস্তুতি আমাদের নেওয়া আছে। আমরা আশা করি, সুন্দরভাবে স্নান কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। কাল বিকেল তিনটা পর্যন্ত লগ্ন রয়েছে, কোনো সমস্যা হবে না।
রিপোর্টার্স২৪/মিতু