কালিহাতী (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার সহদেবপুর ইউনিয়নের ঈদের আগের দিন রাতে দিমুখা কেন্দ্রীয় ঈদগাঁ মাঠকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দুই গ্রামসহ আশপাশের পাঁচটি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এই ঘটনায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের খবর, এই সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন গ্রামের মুসল্লিরা ঐতিহ্যবাহী এই ঈদগাঁ মাঠে একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করতেন। কিন্তু সম্প্রতি মাঠটির নাম পরিবর্তন ও মালিকানা সংক্রান্ত বিরোধ সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ঘটনাস্থলে শান্তি বজায় রাখতে এবং সম্ভাব্য প্রাণহানী বা বৃহত্তর সহিংসতা রোধ করতে কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার খায়রুল ইসলাম ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী ১৪৪ ধারা জারি করেন।
জারিকৃত আদেশ অনুযায়ী, ঈদের দিন সকাল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬:৩০ পর্যন্ত ঈদগাঁ মাঠ ও সংলগ্ন প্রায় ৪০০ গজ এলাকায় সব ধরনের সভা, মিছিল, শোভাযাত্রা, পিকেটিং ও মাইকিং নিষিদ্ধ। এছাড়া বিস্ফোরক দ্রব্য বহন বা উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায়। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত কর্মী ও স্থানীয়দের দৈনন্দিন চলাচল নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, উভয়পক্ষের মধ্যে ইট-পাটকেল ছোঁড়াছুঁড়িতে অন্তত ১৫-২০ জন আহত হন। টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে ৯ জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। কালিবাড়ী বাজারের মুন্ধন এলাকার মৃত শমসের আলীর ছেলে জাবেদ আলী (৫৫) এর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার খায়রুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য উভয় পক্ষের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করা হলেও সমাধান সম্ভব হয়নি। তিনি সকলকে আইন নিজের হাতে না নেওয়ার আহ্বান জানান এবং প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থানে আছে।
কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তৌফিক আজম বলেন, পুলিশ মোতায়েন রয়েছে যাতে পুনরায় সহিংসতা না ঘটে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব