রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান। দেশের সবচেয়ে বড় ও প্রাচীন ঈদের জামাতে এবার অংশ নিয়েছেন ছয় লাখেরও বেশি মুসল্লি। সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে এটিকে অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত ১৯৯তম ঈদুল ফিতরের এই জামাতে ইমামতি করেন কিশোরগঞ্জ শহরের বড় বাজার জামে মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ ছাইফুল্লাহ।
জেলা প্রশাসক ও শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা জানান, দেশ-বিদেশ থেকে আগত লাখো মুসল্লির উপস্থিতিতে এবারের জামাত ছিল নজিরবিহীন। স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি মুসল্লির সমাগম হয়েছে এবার।
ঈদের আগের দিন থেকেই কিশোরগঞ্জমুখী মানুষের ঢল নামে। দেশের ৬৪ জেলা ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলা থেকে দলে দলে মুসল্লিরা ছুটে আসেন শোলাকিয়ায়। কেউ আত্মীয়ের বাসায়, কেউ মসজিদে, আবার অনেকে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটান—শুধু একসাথে ঈদের নামাজ আদায়ের আকাঙ্ক্ষায়।
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঈদগাহ ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। জায়গা সংকুলান না হওয়ায় আশপাশের সড়ক, ভবনের ছাদ এবং নরসুন্দা নদীর তীরেও মুসল্লিরা কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন। শোলাকিয়ার ঐতিহ্য অনুযায়ী, জামাত শুরুর ১০ মিনিট আগে পাঁচটি, ৫ মিনিট আগে তিনটি এবং ১ মিনিট আগে দুটি করে শটগানের ফাঁকা গুলি ছুড়ে মুসল্লিদের জামাতে দাঁড়ানোর সংকেত দেওয়া হয়।
নামাজ শেষে দেশ ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি এবং ফিলিস্তিনের মুসলমানদের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
জামাতে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।
রিপোর্টার্স২৪/এন এইচ