রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: পটুয়াখালী লঞ্চঘাটে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর আল-আমিন (৩২) নামে এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টার দিকে লঞ্চঘাট সংলগ্ন এলাকায় পানিতে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত আল-আমিন পটুয়াখালী সদর উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শিয়ালী গ্রামের মৃত কালু শিকদারের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে পটুয়াখালী লঞ্চঘাট এলাকায় নিখোঁজ হন তিনি। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজাখুঁজি চালালেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে শুক্রবার সন্ধ্যায় লঞ্চঘাটের পন্টুনের পাশ থেকে তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, লঞ্চঘাটে গোসলরত কয়েকজন শিশুর মধ্যে একজন আল-আমিনকে ধাক্কা দিয়ে পানিতে ফেলে দেয়। পানিতে পড়ে যাওয়ার পর তিনি বাঁচার জন্য আকুতি জানালেও কেউ তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেনি। পরে স্রোতের টানে তিনি পন্টুনের নিচে চলে যান।
এদিকে আল-আমিন নিখোঁজ হওয়ার পর লঞ্চঘাট এলাকার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ফুটেজে কয়েকজন শিশুকে গোসল করতে দেখা যায় এবং তাদের মধ্যে একজনকে আল-আমিনকে ধাক্কা দিতে দেখা যায় বলে দাবি পরিবারের।
স্থানীয়রা জানান, আল-আমিন দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় এলাকায় ঘোরাফেরা করতেন এবং প্রায়ই লঞ্চঘাট এলাকায় দেখা যেত। তিনি ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন এবং কারও কোনো ক্ষতি করতেন না।
নিহতের বোন রেশমা জানান, তাদের তিন বোনের একমাত্র ভাই ছিলেন আল-আমিন। দীর্ঘ ১১ বছর ধরে তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। এ ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবি জানান তিনি।
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম