ময়মনসিংহ প্রতিনিধি: ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চার যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৪ মার্চ) রাতে উপজেলার ডাকাতিয়া ইউনিয়নের পাঁচগাঁও এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ময়মনসিংহ শহরের একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডাক্তারের সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। মা-বাবার মৃত্যুর পর সৎ মায়ের কাছে বড় হন এবং দুই মাস আগে নির্যাতনের অভিযোগে বাড়ি ছেড়ে ময়মনসিংহে আসেন।
প্রায় ছয় মাস ধরে ‘জিসান ইসলাম’ নামের একটি ফেসবুক আইডির সঙ্গে তার পরিচয় ও সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওই ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করতে ১৪ মার্চ রাত ৯টার দিকে তিনি ময়মনসিংহ থেকে বাসযোগে ভালুকা বাসস্ট্যান্ডে যান। সেখান থেকে এক ব্যক্তি তাকে সিএনজিতে করে পাঁচগাঁও এলাকায় নিয়ে যায়।
পথে সন্দেহ হলে তিনি যেতে অস্বীকৃতি জানালে জোরপূর্বক তাকে খালের পাশে নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আগে থেকে অবস্থানরত আরও তিনজনসহ চারজন মিলে রাত ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে তাকে ধর্ষণ করে এবং খালের পাড়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় ভালুকা মডেল থানা পুলিশ ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে এবং এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়। ময়মনসিংহ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন।
পরবর্তীতে ডিবি ও থানা পুলিশ তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তাররা হলেন—পাঁচগাঁও এলাকার আশু মিয়ার ছেলে মো. হোসাইন (২১), আব্দুল মোতালিবের ছেলে মো. ফারুক আহাম্মেদ (১৭), মো. শহীদের ছেলে মো. আরিফ (১৭) এবং মঞ্জুরুল হকের ছেলে মো. মেহেদী হাসান (২০)।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে এবং পরবর্তীতে আদালতে ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি