স্টাফ রিপোর্টার: গত এক দশকে নিয়োগ পাওয়া প্রায় এক লাখ পুলিশ কনস্টেবলকে তদন্তের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। ২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে নিয়োগপ্রাপ্ত এসব কনস্টেবলের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, দুর্নীতি ও বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে জেলা পর্যায়ে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। সোমবার (১৬ মার্চ) পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ইতোমধ্যে অফিস আদেশটি দেশের ৬৪ জেলার পুলিশ সুপারদের (এসপি) কাছে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রতি বছর গড়ে আট থেকে দশ হাজার কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়া হয়। সেই হিসেবে গত এক দশকে নিয়োগ পাওয়া কনস্টেবলের সংখ্যা প্রায় এক লাখের কাছাকাছি। এসব নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অফিস আদেশ অনুযায়ী, প্রতিটি জেলায় পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে একটি করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন), জেলা গোয়েন্দা কর্মকর্তা (ডিআইও-১) এবং রিজার্ভ অফিস ইন্সপেক্টর (আরওআই/আরও-১)। তারা নিয়োগ প্রক্রিয়া সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ তদন্ত করবেন এবং মতামতসহ প্রতিবেদন আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে পুলিশ সদর দপ্তরে জমা দেবেন।
তদন্তে বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা হবে,অন্য জেলার প্রার্থীরা ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে চাকরি পেয়েছেন কি না। এমন অভিযোগও রয়েছে যে, কেউ কেউ নিয়োগের জেলায় জমি কিনে স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে দেখিয়ে চাকরি নিয়েছেন।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, কিছু প্রার্থীকে অবৈধ সুবিধার বিনিময়ে আলাদা কক্ষে বিশেষ পুলিশ সদস্যদের তত্ত্বাবধানে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
কোনো প্রার্থী বা তার পরিবারের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার ভিত্তিতে তাকে নিয়োগের জন্য যোগ্য বা অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে কি না,সেটিও তদন্তে দেখা হবে। একই সঙ্গে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বরের মধ্যে অস্বাভাবিক পার্থক্য রয়েছে কি না, তাও যাচাই করা হবে।
এছাড়া প্রশ্নপত্র ফাঁস, নিয়োগে দালালচক্রের সংশ্লিষ্টতা কিংবা অসাধু পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা ছিল কি না,এসব বিষয়ও তদন্তে গুরুত্ব পাবে। এ ধরনের অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।
পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড ক্যারিয়ার প্ল্যানিং–১) মো. আবু হাসান এ সংক্রান্ত নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য সব জেলার পুলিশ সুপারদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন।
পুলিশ সদর দপ্তরের আরেক কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কনস্টেবল নিয়োগে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পরিপ্রেক্ষিতেই এ তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে—এক জেলার প্রার্থীকে অন্য জেলার কোটায় নিয়োগ দেওয়া, রাজনৈতিক সুপারিশের তালিকা ব্যবহার এবং লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও কিছু প্রার্থীকে গোয়েন্দা প্রতিবেদনের অজুহাতে চাকরি না দেওয়া।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি