রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: আজ দিনগত রাতে পালিত হবে মুসলিম উম্মাহর অন্যতম পবিত্র ও মহিমান্বিত রাত পবিত্র শবেকদর বা লাইলাতুল কদর। সূর্যাস্তের পর থেকেই শুরু হবে এই বরকতময় রজনী, যা ইসলামের দৃষ্টিতে হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও অধিক মর্যাদাপূর্ণ।
ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, এ রাতেই মহান আল্লাহ মানবজাতির পথনির্দেশনা হিসেবে পবিত্র কুরআন অবতীর্ণ করেন মহানবী Prophet Muhammad (সা.)-এর ওপর। পবিত্র কুরআনের Surah Al-Qadr-এ আল্লাহ বলেন নিশ্চয় আমি কুরআন নাজিল করেছি লাইলাতুল কদরে। আর তুমি কি জানো লাইলাতুল কদর কী? লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।’
মহিমা, পবিত্রতা ও গভীর আধ্যাত্মিকতার আবহে আজ রাতজুড়ে দেশজুড়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মসজিদ ও ঘরে ঘরে ইবাদত-বন্দেগিতে মগ্ন থাকবেন। কুরআন তিলাওয়াত, নফল নামাজ, জিকির-আযকার ও দোয়ার মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করবেন তারা। রমজানের শেষ দশকের এই মহিমান্বিত রাতের জন্য সারা বিশ্বের মুসলমান অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকে।
কুরআনের বর্ণনা অনুযায়ী, এই রাতে ফেরেশতারা ও হজরত Jibril (আ.) মহান আল্লাহর অনুমতিতে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন এবং রাতটি ফজর পর্যন্ত শান্তি ও রহমতে পরিপূর্ণ থাকে। ইসলামি বিশ্বাসে, এই রাতের ইবাদতের সওয়াব প্রায় তিরাশি বছর চার মাসের ইবাদতের সমান।
হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে, এ রাতে আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের জন্য রহমত ও ক্ষমার দরজা উন্মুক্ত করে দেন। যে ব্যক্তি আন্তরিকভাবে তওবা ও ইস্তিগফারের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, তার গুনাহ মাফ হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
ইসলামি ইতিহাসে বর্ণিত আছে, একবার মহানবী (সা.) সাহাবিদের কাছে বনি ইসরাইলের এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেন, যিনি দীর্ঘ এক হাজার মাস আল্লাহর ইবাদতে নিয়োজিত ছিলেন। তখন সাহাবিরা আফসোস প্রকাশ করলে আল্লাহ তায়ালা লাইলাতুল কদরের সুসংবাদ দেন এবং এই উম্মতের জন্য অল্প সময়েই বেশি সওয়াব অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করেন।
হাদিস অনুযায়ী, মহানবী (সা.) রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোয় লাইলাতুল কদর অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছেন। অনেক সাহাবি রমজানের ২৭তম রাতকে লাইলাতুল কদরের সম্ভাব্য রাত হিসেবে উল্লেখ করলেও অধিকাংশ ইসলামি চিন্তাবিদের মতে, এটি শেষ দশকের যে কোনো বিজোড় রাতে হতে পারে।
এই পবিত্র রাতে মুমিনদের জন্য বেশি বেশি নফল নামাজ আদায়, কুরআন তিলাওয়াত, তওবা ও ইস্তিগফার করার পাশাপাশি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মহানবী (সা.) তাঁর স্ত্রী হজরত আয়েশা (রা.)-কে লাইলাতুল কদরে পড়ার জন্য একটি বিশেষ দোয়া শিখিয়েছিলেন
আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি। অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল এবং ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, তাই আমাকে ক্ষমা করুন।
মহিমান্বিত এই রাতে মুমিনরা নিজেদের অতীত ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং নতুনভাবে জীবন গড়ার অঙ্গীকার করেন। মহান আল্লাহ যেন সবাইকে এই বরকতময় রাতের পূর্ণ ফজিলত ও রহমত লাভের তৌফিক দান করেন। এমনই প্রার্থনা করছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।
রিপোর্টার্স২৪/ ঝুম