নাটোর প্রতিনিধি: নাটোরের গুরুদাসপুরে লিচু বাগানজুড়ে এখন মৌমাছির ব্যস্ততা। লিচু ফুলকে ঘিরে স্থাপন করা হয়েছে শত শত মৌ বাক্স। এতে যেমন বাড়ছে মধু উৎপাদন, তেমনি লিচুর পরাগায়নেও মিলছে বড় সহায়তা।
সবুজ পাতার ফাঁকে স্বর্ণালী লিচুর মুকুলে ভরে উঠেছে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার লিচু বাগানগুলো। চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে লিচু ফুলের মিষ্টি সুবাস। গত বছরের তুলনায় এ বছর লিচু গাছে ফুল ও মুকুলের পরিমাণ বেশি হওয়ায় আশাবাদী চাষিরা।
লিচুর মুকুল ঝরে পড়া ঠেকাতে বাগানের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বাগান মালিকরা। একই সঙ্গে বাগানজুড়ে স্থাপন করা হয়েছে সারি সারি মৌ বাক্স। কাঠের তৈরি ছোট ছোট এসব বাক্সে বাসা বেঁধেছে মৌমাছি। লিচু ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে আবার ছুটে যাচ্ছে নিজেদের নীড়ে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর গুরুদাসপুরে প্রায় ৪১০ হেক্টর জমির ৫৮৫টি লিচু বাগানে ফুল এসেছে। এসব বাগানে প্রায় ২ হাজার মৌ বাক্স স্থাপন করেছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মৌ চাষিরা। গত বছর উপজেলাব্যাপী প্রায় ৩০ মেট্রিকটন মধু সংগ্রহ হয়েছিল। তবে চলতি মৌসুমে তা বেড়ে ৩৫ মেট্রিকটনেরও বেশি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে, যার বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি টাকা।
মৌ চাষিরা জানান, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে তারা লিচু ফুলের মধু সংগ্রহ করতে গুরুদাসপুরে এসেছেন। এখানে মধু সংগ্রহ শেষ হলে তারা পরবর্তীতে তারা পাবনা দিনাজপুরসহ অন্য জেলায় চলে যাবেন। প্রতি কেজি মধু ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়। লিচু ফুলের মধুর চাহিদা ভালো থাকায় লাভবান হচ্ছেন তারা।
বাগান মালিকরা বলছেন, প্রতিবছর তাদের বাগানে মৌয়ালরা আসে মধু সংগ্রহ করতে। এর ফলে লিচুর পরাগায়ন বাড়ে এবং উৎপাদনও বৃদ্ধি পায়। তাই তারা মৌ চাষিদের সার্বিক সহযোগিতা করে থাকেন।
নাটোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ হাবিবুল ইসলাম খান জানান, মৌমাছির মাধ্যমে লিচুর পরাগায়ন বৃদ্ধি পায়, ফলে ফলন ও গুণগত মান দুটোই বাড়ে। একই সঙ্গে মৌ চাষিরাও মধু সংগ্রহ করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে।
রিপোর্টার্স২৪/মিতু