বেনাপোল প্রতিনিধি: শবে কদর, ঈদুল ফিতর ও সাপ্তাহিক ছুটির কারণে টানা ৭ দিন দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানিসহ বন্দর ও কাস্টমসের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এর ফলে স্থবির হয়ে পড়বে বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর-এর কার্যক্রম।
এদিকে ঈদুল ফিতরের ছুটিতে সীমিত আকারে কাস্টমস হাউসগুলোর আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চালু রাখার নির্দেশনা দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে শুধু ঈদের দিন শুল্ক স্টেশনগুলো বন্ধ থাকবে। এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব (কাস্টমস নীতি) রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় গত সোমবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।
তবে বেনাপোল কাস্টমস সিএন্ডএফ এজেন্ট ও ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির কর্মকর্তারা বলছেন, কর্মচারীদের অধিকাংশই ঈদের ছুটিতে কাজ করতে আগ্রহী নন। সে ক্ষেত্রে বেনাপোল কাস্টমস হাউসে ছুটির মধ্যে কার্যক্রম কতটা সচল থাকবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
অন্যদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, ছুটির দিনগুলোতে বন্দর সীমিত আকারে খোলা রাখা হবে। কেউ পণ্য খালাস নিতে চাইলে তা দেওয়া হবে।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, দেশের অর্থনীতিতে বেনাপোল বন্দরের ভূমিকা অপরিসীম। ভারত থেকে আমদানিকৃত পণ্যের প্রায় ৯০ শতাংশই আসে বেনাপোল বন্দর দিয়ে। মাত্র সাত দিনের এলসিতে পণ্য আনা যায় এই বন্দর দিয়ে। পেট্রাপোল স্থলবন্দর থেকে বেনাপোল চেকপোস্টের দূরত্ব মাত্র ৮১ কিলোমিটার। আড়াই ঘণ্টায় ট্রাক চলে আসে পেট্রাপোল থেকে বেনাপোল বন্দরে। সে কারণে আমদানিকারকরা পণ্য আমদানির জন্য বেনাপোল বন্দর ব্যবহার করে থাকেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দীর্ঘ ছুটির কারণে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে বিরূপ প্রভাব পড়বে। এমনিতেই বেনাপোল বন্দরে পণ্যজট লেগেই থাকে। দীর্ঘ ছুটির কারণে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কাঁচামালের সংকট দেখা দিতে পারে। সীমান্তের দু’পাশে ট্রাকজট আরও বাড়বে বলেও আশঙ্কা করছেন বন্দরসংশ্লিষ্টরা। তবে এ ছুটিতে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের চলাচল স্বাভাবিক থাকবে।
বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লতা বলেন, মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল থেকে বেনাপোল-পেট্রাপোলের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাবে। কাস্টমস ও বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজ নিজ বাড়িতে ঈদ করতে চলে যাবেন। এরপর সরকার ঈদের তিন দিন আগে ও পরে ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান চলাচল বন্ধ রাখায় বন্দর থেকে কোনো পণ্য খালাসও হবে না। অনেক আমদানিকারকও ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে বাড়ি চলে যাবেন। তারা ঢাকা ফিরে না আসা পর্যন্ত পণ্য খালাস নেওয়ার কার্যক্রমও বন্ধ থাকবে।
দুই দেশের সিএন্ডএফ এজেন্ট ও বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ঈদের ছুটি শুরু হচ্ছে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) থেকে এবং চলবে সোমবার (২৩ মার্চ) পর্যন্ত। ফলে সব মিলিয়ে ৭ দিনের ছুটির ফাঁদে পড়তে যাচ্ছে বেনাপোল বন্দর। আগামী মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল থেকে পুনরায় আমদানি-রপ্তানিসহ বন্দর ও কাস্টমসের কার্যক্রম সচল হবে।
এদিকে টানা ছুটির কারণে সীমান্তের দুই পাশের বন্দরে ট্রাকজট আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা। বেনাপোলের মতো পেট্রাপোল বন্দরে ইতোমধ্যে ট্রাকজট তৈরি হয়েছে। বন্দরে স্থান সংকুলান না হওয়ায় ট্রাক টার্মিনাল ও পেট্রাপোল বন্দর টার্মিনালে কয়েকশ পণ্যবাহী ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে। রবিবার ও সোমবার (১৫ ও ১৬ মার্চ) কিছু পণ্য বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করলেও দীর্ঘ ছুটির কারণে অনেক পণ্য ছুটি শেষে বেনাপোলে ঢুকবে।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম শাখাওয়াত হোসেন জানান, পবিত্র ঈদুল ফিতর ও সাপ্তাহিক ছুটির কারণে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলেও পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত স্বাভাবিক থাকবে। এ সময় যাত্রীচাপ কিছুটা বাড়তে পারে। সে কারণে ইমিগ্রেশনে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে।
বেনাপোল পোর্ট থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন বলেন, ঈদের ছুটির মধ্যে বন্দর এলাকায় যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা দুর্ঘটনা না ঘটে, সে জন্য বিশেষ নজরদারি নেওয়া হয়েছে।
বেনাপোল কাস্টমসের সহকারী কমিশনার রাহাত হোসেন জানান, ঈদুল ফিতরের ছুটিতে সীমিত আকারে অন্যান্য কাস্টমস হাউসের মতো বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এর নির্দেশনা অনুযায়ী এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শুধু ঈদের দিন শুল্ক স্টেশনগুলো বন্ধ থাকবে।
বেনাপোল বন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামীম হোসেন জানান, মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকেল থেকে ঈদের ছুটি শুরু হবে। ছুটিতে বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও কাস্টমসের সঙ্গে সমন্বয় করে সীমিত আকারে বন্দর খোলা থাকবে। কোনো আমদানিকারক পণ্য ডেলিভারি নিতে চাইলে তা দেওয়া হবে। এছাড়া ছুটির মধ্যে যাতে কোনো নাশকতামূলক বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বন্দরের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী ও আনসার সদস্যরা দিন-রাত বন্দর এলাকায় টহল দেবেন। পাশাপাশি বিষয়টি বেনাপোল পোর্ট থানা কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে। আগামী ২৪ মার্চ থেকে বন্দরের কর্মতৎপরতা আবারও বাড়বে।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন