সিনিয়র রিপোর্টার: দেশের বিভিন্ন জেলায় কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সিলেট, মাগুরা, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট ও দিনাজপুরসহ বিভিন্ন জেলায় থেমে থেমে ঝড় ও শিলাবৃষ্টি হয়। এতে আম ও লিচুর মুকুল ঝরে পড়ার পাশাপাশি গম, ভুট্টা, ডালসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক স্থানে ঘরবাড়ি ও গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
সিলেটের ওসমানীনগরে বিকেলে হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ে সাবিয়া বেগম (৪৫) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়। তিনি বালাগঞ্জ উপজেলার বোয়ালজুর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের খালিছ মিয়ার স্ত্রী। পুলিশ জানায়, তাজপুর ইউনিয়নের দশহাল গ্রামে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসে নূরুল আলমের নির্মাণাধীন ঘরের টিন উড়ে গিয়ে তার গলায় আঘাত লাগে, এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। প্রায় ২০ মিনিট স্থায়ী ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে শতাধিক গাছ উপড়ে পড়ে।
সিলেট নগরীতেও বিকেল ৫টার দিকে ঘূর্ণিঝড় ও শিলাবৃষ্টি হয়। ঝড়ে বহু স্থানে ঘরের টিনের চালা উড়ে যায় এবং গাছপালা উপড়ে পড়ে। দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কে গাছ পড়ে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ঝড়ের পর নগরের অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
মাগুরায় কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে আকরাম হোসেন নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। বিকেলে মাঠে কাজ করার সময় শিলাবৃষ্টির আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। তিনি সদর উপজেলার ডহরসিংড়া গ্রামের বাসিন্দা। জেলা প্রশাসক আতিকুর রহমান একজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঝড় ও শিলাবৃষ্টির ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায় শিলাবৃষ্টির আঘাতে সৈয়দ আলী (৫৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, ঝড়ের সময় ঘরের টিনের চালা সংস্কার করার সময় মাথায় শিলার আঘাত লেগে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ ছাড়া ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ফসল, ঘরবাড়ি ও গবাদিপশুর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নিহতের পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে পাঁচ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ঠাকুরগাঁওয়ে বেলা ১১টার দিকে হঠাৎ শিলাবৃষ্টি শুরু হয়ে প্রায় আধা ঘণ্টা স্থায়ী হয়। এতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় গম, ভুট্টা ও মসুর ডালসহ নানা ফসলের ক্ষতি হয়েছে। আম ও লিচুর গাছের মুকুল ঝরে পড়ায় কৃষকেরা বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ শুরু করেছেন।
লালমনিরহাটেও সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ভারী শিলাবৃষ্টিতে অসংখ্য টিনের ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলায় অনেক বাড়ির টিনের চালা ফুটো হয়ে গেছে এবং ভুট্টা, মরিচ, পেঁয়াজ ও বোরো ধানের ক্ষেতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শিলার আঘাতে কয়েকজন আহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে মোমেনা বেগম (৫০), রবিউল ইসলাম (৩৫), আতোয়ার রহমান (৫০), জড়িবুল (২৮), শিশু স্বাধীন (২) ও ঝরনা বেগম (৪০) রয়েছেন।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।