রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: জুলাই–আগস্টের গণআন্দোলনের সময় গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে আটক রেখে রাজনৈতিক নেতাদের চোখ বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির নেতা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের ওপর আনা শোক প্রস্তাব-এর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যের শুরুতেই তিনি জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত সব শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং বিগত সময়ে গুম-খুনের শিকার নেতাকর্মীদের স্মরণ করেন। একই সঙ্গে সদ্যপ্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া-র দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে তার আত্মার শান্তি কামনা করেন।
আন্দোলনের সময়কার পরিস্থিতি তুলে ধরে এ্যানি বলেন, আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর দমন-পীড়ন চালাতে তখন ভয়াবহ সহিংসতার আশ্রয় নেওয়া হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলন দমাতে হেলিকপ্টার থেকেও গুলি ছোড়া হয়েছিল এবং একটি একনায়কতান্ত্রিক শাসন কায়েম রাখতে রক্তপাত ঘটানো হয়েছিল।
ডিবি কার্যালয়ে নির্যাতনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, গত ২৫ জুলাই আমাদের অনেক সিনিয়র নেতা ডিবি অফিসে চোখ বাঁধা অবস্থায় ছিলেন। সেখানে তাদের ওপর ধারাবাহিকভাবে অত্যাচার ও নির্যাতন চালানো হয়েছিল। আমরা তখন এর প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম।
তিনি আরও বলেন, সেই সময় একই কক্ষে সরকারি দল ও বিরোধী দলের অনেক নেতা আটকে ছিলেন এবং সবাই নির্যাতনের শিকার হন।
৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহের কথা স্মরণ করে এ্যানি বলেন, সেদিন ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন ঘটবে—এটি তারা আগে থেকে বুঝতে পারেননি। তবে পরিস্থিতি বদলে গেলে অনেকেই আবেগে কেঁদে ফেলেন।
নতুন বাংলাদেশ গঠনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর ঐক্যের আহ্বানের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ পতনের দিন প্রধানমন্ত্রী একটি ভিডিও বার্তায় প্রতিশোধ বা প্রতিহিংসার রাজনীতি না করে নতুনভাবে দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন, যা অনেককে অনুপ্রাণিত করেছে।
বক্তব্যের শেষ দিকে এ্যানি সকল বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে একটি শক্তিশালী ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম