স্টাফ রিপোর্টার: ঢাকার সাভারে এক নারীকে দীর্ঘদিন ধরে ইভটিজিং করার প্রতিবাদ করায় বিএনপি নেতা শাহাদাত খানকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সাভার পৌর এলাকার ব্যাংক টাউন পাগলার মোড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। হামলায় শাহাদাত খানের পাশাপাশি ইভটিজিংয়ের শিকার নারীসহ আরও চারজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বিএনপি নেতা শাহাদাত খানের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ইভটিজিংয়ের শিকার রিয়া মনি (১৮) প্রায় দুই মাস ধরে স্থানীয় কয়েকজন যুবকের দ্বারা উত্ত্যক্ত হচ্ছিলেন। রিয়া বলেন, গার্মেন্টস থেকে বাসায় আসা–যাওয়ার পথে আমিন, সুমনসহ আরও কয়েকজন অশালীন ও যৌন উত্তেজনামূলক মন্তব্য করত। বিষয়টি সহ্য করতে না পেরে আমি পরিবারের কাছে জানাই। পরে পরিবার বিষয়টি স্থানীয় বিএনপি নেতা শাহাদাত খানের কাছে জানান।
শাহাদাত খান ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগকারীর সঙ্গে অভিযুক্তদের সমাধান চেষ্টার সময় হামলার শিকার হন। হামলাকারীরা ৪০-৫০ জনের একটি দল নিয়ে আসে, লাঠি, শাবল ও ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে তাকে এবং সঙ্গে থাকা অন্যান্য ব্যক্তিদের আঘাত করে। শাহাদাত খানের মাথায় ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করা হয়। হামলায় আহত হন রিয়ার বাবা মো. মকমেল ও অন্যান্যরা।
আহতরা হলেন—শাহাদাত খান, রিয়া মনি, তার স্বামী রাকিব (২১), রাকিবুল হাসান (২৬) এবং মো. মকমেল (৫০)। আহতদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, গুরুতর আহত শাহাদাত খানকে ঢাকার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত আয়ুব খান বলেন, আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম, কিন্তু কাউকে আঘাত করিনি। সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী জানান, ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত আছি। ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনার পর সাভার এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা নারী সুরক্ষা ও আইনের যথাযথ প্রয়োগের ক্ষেত্রে গুরুতর সংকেত, এবং জনগণ ও স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ জরুরি।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি