সিনিয়ির রিপোর্টার: চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় যৌথ বাহিনীর দিনব্যাপী বিশেষ অভিযানে ১২ জনকে আটক করা হয়েছে। এ সময় দুটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়। সোমবার (৯ মার্চ) অভিযান শেষে সন্ধ্যা ৭টার দিকে এ তথ্য জানান চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) মো. রাসেল।
তিনি জানান, স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় দুটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, অবৈধ অস্ত্র মজুত, পাহাড় কেটে প্লট বিক্রি, অপরাধীদের আশ্রয়স্থল তৈরি এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগ ছিল। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার ভোর সাড়ে ৫টা থেকে যৌথ বাহিনীর ব্যাপক বিশেষ অভিযান শুরু হয়।
অভিযানে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি ও র্যাবের মোট ৩ হাজার ১৮৩ জন সদস্য অংশ নেন। পাশাপাশি অভিযানে দায়িত্ব পালন করেন সাতজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। অভিযান পরিচালনায় তিনটি হেলিকপ্টার, ১৫টি এপিসি, র্যাব ও সিএমপির তিনটি ডগ স্কোয়াড এবং ১২টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়।
আধুনিক প্রযুক্তি ও বিশেষ কৌশল প্রয়োগ করে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় চিরুনি অভিযান চালানো হয়। যৌথ বাহিনীর সদস্যরা জঙ্গল সলিমপুরের বিভিন্ন পাহাড়ি ও দুর্গম স্থানে অবস্থান নিয়ে সন্দেহভাজন আস্তানা, ঝুঁকিপূর্ণ বসতি, পাহাড়ি পথ, গোপন স্থাপনা এবং অপরাধীদের সম্ভাব্য অবস্থানগুলোতে তল্লাশি চালান।
অভিযান চলাকালে বিভিন্ন স্থান থেকে মোট ১২ জনকে আটক করা হয়। এ সময় একটি পিস্তল, একটি এলজি, চারটি কার্তুজ, ১১টি ককটেল, ১৭টি দেশি অস্ত্র, ১৯টি সিসিটিভি ক্যামেরা, দুটি ডিভিআর, একটি পাওয়ার বক্স এবং দুটি বাইনোকুলার জব্দ করা হয়।
পুলিশের দাবি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা, এলাকায় নজরদারি স্থাপন এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য এসব সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছিল।
অভিযান শেষে জঙ্গল সলিমপুরের ছিন্নমূল ও আলীনগর এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধীদের পুনরায় সংগঠিত হওয়ার সুযোগ বন্ধ করা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি