নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁয় গৃহবধূ ইয়াসমিন বানুর হত্যায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে স্বজন ও এলাকাবাসী। রোববার (৮ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টায় শহরের মুক্তির মোড় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে সড়কে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
গৃহবধূ ইয়াসমিন বানু বদলগাছী উপজেলার ভরট্র গ্রামের রিয়াজ উদ্দিনের মেয়ে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস আগে সদর উপজেলার জমির শেখের ছেলে আকাশের সঙ্গে পারিবারিকভাবে ইয়াসমিনের বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর তার স্বামী পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়লে ইয়াসমিনকে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন ও মারপিট করতেন। তবুও ভবিষ্যৎ সুখের আশায় ইয়াসমিন সব অন্যায়-অত্যাচার সহ্য করে সংসার চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
গত ফেব্রুয়ারির ২০ তারিখে আকাশসহ তার পরিবারের সদস্যরা আবারও ইয়াসমিনকে মারপিট করতে থাকলে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে তাদের গালিগালাজ করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে ইয়াসমিনের পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে হত্যায় জড়িতদের বিচারের দাবি জানান তারা।
নিহতের বাবা রিয়াজ উদ্দিন বলেন, “আমি গরিব মানুষ। মানুষের কাছে হাত পেতে মেয়ের বিয়েতে স্বর্ণালংকার বাবদ প্রায় ৫০ হাজার টাকা দিয়েছি। এছাড়া ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দেনমোহর ছিল। পরকিয়ায় জড়িয়ে পড়ার প্রতিবাদ করলে আমার মেয়েকে শারীরিক নির্যাতন করে জামাই আকাশসহ তার পরিবারের লোকজন। একপর্যায়ে তারা আমার মেয়েকে নির্যাতন করে হত্যা করে। আমি এর বিচার চাই।”
নিহতের বোন রেসমা খাতুন বলেন, “আমার বোনকে অনেক শারীরিক নির্যাতন ও মারপিট করে হত্যা করা হয়েছে। মরদেহের সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন, চোয়াল ফুলে কালচে জখম এবং নাকে রক্তের দাগ ছিল। পরে সত্য ঘটনা গোপন করার জন্য পুলিশকে প্রভাবিত করে কৌশলে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করা হয় এবং আমাদের বলা হয় হত্যা মামলা রেকর্ড করে তদন্ত করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার না করলে পরে থানার খোঁজ নিয়ে দেখা যায় হত্যা মামলা রেকর্ড না করে অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। তাই দ্রুত আমার বোনের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে ফাঁসির দাবি জানাচ্ছি।”
রিপোর্টার্স২৪/এসএন