গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার ঘোরশ্বাব জলমহালকে কেন্দ্র করে উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব মামুনুর রশিদ এর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব মামুনুর রশিদ।শনিবার (৭ মার্চ) সকালে উপজেলার ঘাগটিয়া ইউনিয়নের কামারগাঁও গ্রামে তিনি এ সংবাদ সম্মেলন করেন।
মামুনুর রশিদ দাবি করেন, গত শুক্রবার সনমানিয়া ইউনিয়নের চরণীলক্ষী স্কুল মাঠে একটি কুচক্রী মহল ঘোরশ্বাব জলমহাল সংক্রান্ত আয়োজিত মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে আমার নাম জড়িয়ে সংবাদ মাধ্যমে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করে।
তিনি প্রকাশিত সংবাদ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবী করে বক্তব্য প্রদান করেন। এসময় তিনি বলেন, আমি জীবনে কারো কোন ধরণের ক্ষতি করিনি, উপকার ছাড়া। সব সময়ই আমি এলাকাবাসীর সঙ্গে ছিলাম এবং ভবিষ্যতেও থাকবো। দুই ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের ন্যায্য দাবীকে আমি স্বাগত জানাই। আমিও চাই জলমহাল যেন উন্মুক্ত হোক।
কিন্তু বর্তমানে যারা (ইজারাদার) সরকারের কাছ থেকে বৈধভাবে ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করেছেন তাদের ক্ষতিসাধন হয় এমন কিছু করা যাবে না। যেহেতু সরকার থেকে ইজারা নেওয়া।
আমার জানা মতে বর্তমানে এই জলমহালের ইজারাদার হিসেবে আছেন জয়দেবপুরের মাধববাড়ী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড। এখানে আমার কোন ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। তারপরও একটি মহল জানি না কি কারণে আমাকে জড়িয়ে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ পরিবেশন করছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
এছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে 'মাধববাড়ী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড' এর সহ-সভাপতি জিতেন্দ্র চন্দ্র বর্মন বলেন, সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১৪৩১-১৪৩৬ বঙ্গাব্দ মেয়াদে ঘোরশ্বাব বন্ধ জলমহালের লিজ গ্রহণ করি। বিগত সময়েও এই সমিতি জলমহালের লিজে ছিলো। তারপর থেকে মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির আওতাধীন আমরা গরীব জেলেরা এখানে মাছ চাষের মাধ্যমে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করেছি। সম্প্রতি এই জলমহালকে নিয়ে কিছু কুচক্রী দলের লোকজন মানববন্ধন করেছে। তারাই গত সময়ে এই ফিশারিজ থেকে মাছ লুটপাট করেছে। আর এরাই আবার মানববন্ধন করছে।
যুবদল নেতা মামুনুর রশিদের বিষয়ে তিনি বলেন, ওনি আমাদের (সমিতির) সঙ্গে নাই। বিপদে-আপদে তিনি দূর থেকে সহযোগিতা করেছেন। এতে করে আমরা গরীব মৎস্যজীবীরা উপকৃত হয়েছি। ওনাকে জড়িয়ে যে সংবাদ উপস্থাপন করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট।
আগামীতে তিনি (মামুন) স্থানীয় ইউপি নির্বাচন করবেন জেনেই ওনার বিরুদ্ধে এই অপপ্রচার। আপনারা এই জলমহাল উন্মুক্ত করবেন ভালো কথা, তাহলে কারো ব্যক্তির বিরুদ্ধে না গিয়ে ডিসি স্যার, সচিব স্যার এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ে যান, এসিল্যান্ড এবং ইউএনও স্যারের কাছে যান। ওনারা যদি উন্মুক্ত করে দেয় তাহলে আমরা গরীব মৎস্যজীবীরা এই জলমহাল ছেড়ে চলে যাবো।
মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে দুই ইউনিয়নের সহস্রাধিক নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে বক্তরা দাবী করেন, যুবদল নেতা মামুনকে জড়িয়ে একটি মহল যে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ করেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
এসময় স্থানীয় লোকজন ও হিন্দু সম্প্রদায়ের অধিবাসীরা প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, মামুনুর রশিদ ভাই আমাদের সুখে-দুঃখে সব সময়ই পাশে থাকেন। আমরা কোনভাবেই তার বিরুদ্ধে এই অপপ্রচার মেনে নিতে পারছি না।
এ সময় মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ঘোরশ্বাব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক মনিরুল হক (তারা মিয়া), সাবেক ইউপি সদস্য মো: রমজান আলী, মো: নজরুল ইসলাম ব্যাপারী, কাজী রাশিদুল ইসলাম, ইউপি সদস্য মারফত মিয়া, ইউপি সদস্য মোস্তফা কামাল মঞ্জু, আশরাফুল ইসলাম কাজল, হিরণ বাদশা, কবির হোসেন বিএসসিসহ প্রমু।
রিপোর্টার্স২৪/মিতু