প্রিন্ট এর তারিখঃ | বঙ্গাব্দ || প্রকাশের তারিখঃ 06-03-2026 ইং
সংবাদ শিরোনামঃ খাগড়াছড়িতে চার জনগোষ্ঠীর শিল্পীদের নিয়ে মিউজিক ক্যাম্প শুরু
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: পাহাড়ি সংস্কৃতির বৈচিত্র্যময় সুর, তাল ও সৃজনশীলতার সমন্বয়ে খাগড়াছড়িতে শুরু হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী মিউজিক ক্যাম্প। ত্রিপুরা, চাকমা, মারমা ও সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর গীতিকার, সুরকার, কণ্ঠশিল্পী ও যন্ত্রশিল্পীদের অংশগ্রহণে এই আয়োজন পাহাড়ি সংগীতচর্চায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
বৃহস্পতিবার খাগড়াছড়ি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট-এর অডিটোরিয়ামে মিউজিক ক্যাম্পের উদ্বোধন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইনস্টিটিউটের পরিচালক ঞ্যো হ্লা মং।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের প্রতিটি জনগোষ্ঠীর নিজস্ব সংগীতধারা, বাদ্যযন্ত্র ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে। এসব ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আন্তঃসাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে পাহাড়ি সংগীতের বিকাশ এবং সাংস্কৃতিক ঐক্য সুদৃঢ় হবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেন।
এই মিউজিক ক্যাম্পে মোট ৬৯ জন গীতিকার, সুরকার, কণ্ঠশিল্পী ও যন্ত্রশিল্পী অংশ নিচ্ছেন। অংশগ্রহণকারীদের ঐতিহ্যবাহী লোকসংগীত, সুরের ব্যবহার, বাদ্যযন্ত্র পরিচালনা ও পরিবেশন কৌশল বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি যৌথভাবে নতুন সংগীত সৃষ্টির সুযোগও তৈরি হচ্ছে।
আয়োজকরা জানান, পাহাড়ি বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী সংগীত সংরক্ষণ, তরুণ শিল্পীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং সাংস্কৃতিক বন্ধন জোরদার করাই এই ক্যাম্পের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত হলে পাহাড়ি সংগীত দেশব্যাপী আরও পরিচিতি পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
অনুষ্ঠানে খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ পুলক বরন চাকমা, জেলা পরিষদের সদস্য জয়া ত্রিপুরা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রুমানা আক্তার, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা উষানু চৌধুরী ও জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা নাহিদ নাজিয়াসহ সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।