রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন—এখন কার্যত আর্থিক ধসের মুখে। সাবেক প্রশাসনের রেখে যাওয়া বিপুল বকেয়া বিল, অগ্রিম ওয়ার্ক অর্ডার এবং রাজস্ব ঘাটতির চাপে প্রতিষ্ঠান দুটির দৈনন্দিন কার্যক্রমই টালমাটাল হয়ে পড়েছে।
সূত্র জানায়, আগের প্রশাসন প্রায় ৪৭০ কোটি টাকার কাজের বিল পরিশোধ না করেই বিদায় নিয়েছে। শুধু তাই নয়, কোষাগারে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকা সত্ত্বেও প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকার অগ্রিম ওয়ার্ক অর্ডার দিয়ে রাখা হয়েছে। ফলে নতুন প্রশাসকদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ—কীভাবে এই সংকট সামলে নগর পরিচালনা সচল রাখা যায়।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সঙ্গে বৈঠকে বসেন দুই সিটি করপোরেশনের নবনিযুক্ত প্রশাসক—মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন ও মো. আব্দুস সালাম। বৈঠকে তারা জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ বরাদ্দের দাবি জানান।
জানা গেছে, উত্তর সিটির কোষাগারে বর্তমানে মাত্র ২৫ কোটি টাকা রয়েছে। অথচ মাসিক বেতন বাবদ প্রয়োজন প্রায় ১৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তো দূরের কথা, নিয়মিত ব্যয় নির্বাহ করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।
নবনিযুক্ত প্রশাসকরা জানান, জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগে বিপুলসংখ্যক টেন্ডার ও ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প যাচাই-বাছাই ছাড়া বাস্তবায়ন করলে সিটি করপোরেশন কার্যত ধসে পড়বে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
দক্ষিণ সিটির প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, রাজস্ব আয়ের বর্তমান পরিস্থিতিতে বেতন দেওয়াই অনিশ্চিত। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা করপোরেশনকে শূন্য অবস্থায় এনে দাঁড় করিয়েছে।
অর্থাভাব থাকলেও নগরবাসীর স্বার্থে জরুরি কার্যক্রমে জোর দিতে নির্দেশ দিয়েছেন সরকারপ্রধান। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুম ও সম্ভাব্য ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় মশক নিধন, খাল খনন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
উত্তর সিটিতে ২৯টি খাল পুনঃখনন ও বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। নাব্যতা কমে যাওয়া খালগুলোতে খননযন্ত্র দিয়ে পানি প্রবাহ সচল রাখার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
দখলদারদের উচ্ছেদে ঈদের পর অভিযান চালানোর কথাও জানিয়েছেন প্রশাসকরা। তবে নিম্নআয়ের মানুষদের পুনর্বাসন বা ক্ষতিপূরণের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে মানবিক সমাধানের চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছেন তারা।
নির্বাচন ও আন্দোলনের প্রভাবে গত কয়েক মাসে রাজস্ব আদায় উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। ফলে সিটি করপোরেশনগুলো এখন সরকারি সহায়তা ছাড়া টিকে থাকা কঠিন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে নতুন প্রশাসনের দাবি, সংকট যত বড়ই হোক—পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও মশামুক্ত ঢাকা গড়তে তারা পিছপা হবেন না। এখন দেখার বিষয়, বিশেষ বরাদ্দ কত দ্রুত আসে এবং তা দিয়ে রাজধানীর এই আর্থিক বিপর্যয় কতটা সামাল দেওয়া সম্ভব হয়।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম