রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোট অধ্যাদেশের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে হাইকোর্টে। সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশ ও আদেশ কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলাম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। এর আগে সোমবার (২ মার্চ) বিষয়টি নিয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ এবং অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক।
রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও সৈয়দ মামুন মাহবুব, ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া ও গাজী কামরুল ইসলাম প্রমুখ।
অন্যদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি-এর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির শুনানিতে অংশ নেন।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চৌধুরী মো. রেদোয়ান-ই-খোদা গত ২৩ ফেব্রুয়ারি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ এবং গণভোট অধ্যাদেশের ৩ ধারা ও তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করেন। রিটে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট বিধানগুলো সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক; ফলে কেন এগুলো আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না- সে বিষয়ে রুল জারির আবেদন জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে রুল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় গণভোট অধ্যাদেশের ৩ ধারা ও তফসিলের কার্যক্রম স্থগিত রাখতে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা চাওয়া হয়।
এ ছাড়া গত সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গাজী মো. মাহবুব আলম পৃথক আরেকটি রিট করেন। তাঁর আবেদনে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ এবং এর আলোকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ গ্রহণের জন্য গত ১৬ ফেব্রুয়ারি জারি করা চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়। রিটে দাবি করা হয়, আদেশ ও সংশ্লিষ্ট চিঠি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক; তাই কেন তা বাতিল ঘোষণা করা হবে না- সে বিষয়ে রুল জারি করা হোক। পাশাপাশি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় ওই আদেশ ও শপথসংক্রান্ত কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
হাইকোর্টের জারি করা রুলের ওপর পরবর্তী শুনানির মাধ্যমে বিষয়টির আইনি ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।
রিপোর্টার্স২৪/আরকে