রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২ মার্চ পর্যন্ত তিন দিনে ইরান থেকে ছোড়া বিপুল সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিস্ফোরকবাহী ড্রোন প্রতিহত করেছে কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনী। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তাসংস্থা কুয়েত নিউজ এজেন্সি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই তিন দিনে ইরান থেকে ছোড়া অন্তত ১৭৮টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩৮০টির বেশি ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে। কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ব্যবহৃত যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের মাধ্যমে এসব হামলা প্রতিহত করা হয়।
তবে সব হামলা ঠেকানো সম্ভব হয়নি। কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়। এতে কুয়েতের সেনাবাহিনীর ২৭ জন সদস্য আহত হয়েছেন। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।
কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি রয়েছে- ক্যাম্প আরিফজান, আলী আল সালেম এয়ারবেইস এবং ক্যাম্প বুহেরিং। এসব ঘাঁটির নিরাপত্তা ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড United States Central Command (সেন্টকোম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভুলবশত ছোড়া গোলার আঘাতে মার্কিন যুদ্ধবিমান F-15E Strike Eagle ভূপাতিত হয়েছে। ঘটনাটিতে বিমানগুলোর ছয়জন ক্রু নিরাপদে বের হয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানানো হয়।
সাম্প্রতিক এই ঘটনাবলি মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা যেমন সামনে এসেছে, তেমনি ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ বা ভুলবশত নিজেদের বাহিনীর ওপর হামলার ঝুঁকিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজর।
রিপোর্টার্স২৪/আরকে