রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন-এ আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে ‘একুশে পদক ২০২৬’ প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গুণীজনদের দিকনির্দেশনায় সমৃদ্ধ, নৈতিক ও আলোকিত সমাজ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্রে কৃতি মানুষের সংখ্যা যত বাড়ে, সেই সমাজ তত বেশি আলোকিত ও সমৃদ্ধ হয়।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় রাজনীতিবিদদের ভূমিকা থাকলেও জ্ঞানী-গুণীজনরাই প্রকৃত পথপ্রদর্শক। তাঁদের মেধা, মনন ও সৃষ্টিশীলতা জাতিকে এগিয়ে নেয়। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের প্রতিটি ঐতিহাসিক অর্জনে বিজ্ঞজনদের অবদান অনস্বীকার্য বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর অতিক্রম করে জাতি এখন ৭৫ বছরে পদার্পণ করছে। একুশ বাঙালির অবিনাশী চেতনা ও স্বাধিকার অর্জনের প্রেরণা। উদার ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় দেশের জ্ঞানী-গুণীদের পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা অপরিহার্য।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রসত্তা নির্মিত হয়েছে তিনটি ঐতিহাসিক আলোকধারায়- ২১, ৭১ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান। তাঁর ভাষায়, ‘২১ শিখিয়েছে অস্তিত্ব, ৭১ শিখিয়েছে মর্যাদা, আর জুলাই শিখিয়েছে রাষ্ট্রকে ন্যায় ও জবাবদিহিতার আলোয় পুনর্গঠন করতে হয়।’ সংস্কৃতিই জাতির আত্মাকে ধারণ ও রক্ষা করে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম বলেন, একুশে পদক কেবল একটি রাষ্ট্রীয় সম্মাননা নয়; এটি আদর্শ, দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেমের প্রতীক।
সংস্কৃতি সচিব মো. মফিদুর রহমান স্বাগত বক্তব্যে জানান, ১৯৭৬ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ৯ জন গুণী ব্যক্তিকে পদক প্রদানের মাধ্যমে এই পুরস্কারের সূচনা করেন। ১৯৭৬ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত মোট ৬০৫ জন ব্যক্তি ও ৯টি প্রতিষ্ঠান এ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
যারা পেলেন ‘একুশে পদক ২০২৬’
চলতি বছর বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ যাঁরা একুশে পদক পেয়েছেন, তাঁরা হলেন- অভিনয়: ফরিদা আক্তার ববিতা, চারুকলা: অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সাত্তার, স্থাপত্য: মেরিনা তাবাসসুম, সংগীত (মরণোত্তর): আইয়ুব বাচ্চু, নৃত্য: অর্থী আহমেদ, পালাগান: ইসলাম উদ্দিন পালাকার, সাংবাদিকতা: শফিক রেহমান, শিক্ষা: অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আলম মজুমদার, ভাস্কর্য: তেজস হালদার জস, সংগীতাঙ্গনে বিশেষ অবদান: ওয়ারফেজ।
ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে ১৯৭৬ সাল থেকে একুশে পদক প্রদান করা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় এই সম্মাননার অংশ হিসেবে প্রত্যেককে একটি স্বর্ণপদক, সম্মাননাপত্র এবং নির্ধারিত অর্থ প্রদান করা হয়। শিক্ষা, শিল্পকলা, সমাজসেবা ও গবেষণাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই এ পদক প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, কূটনীতিকসহ সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টার্স২৪/আরকে