জেলা প্রতিনিধি: কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকায় নবনির্মিত একটি এলপিজি গ্যাস ফিলিং স্টেশনে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১৬ জন দগ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত ৭ জনকে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে এবং ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ঢাকায় রেফার করা হয়েছে।
বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণের পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে সন্ধ্যা ৭টার দিকে এন আলম নামের নতুন নির্মিত পাম্প থেকে গ্যাস লিকেজ শুরু হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার পর রাত ১০টা ২০ মিনিটে বিস্ফোরণ ঘটে এবং মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে।
সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, রেড ক্রিসেন্ট ও স্থানীয়দের সমন্বিত চেষ্টায় প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রায় ১৪ হাজার লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন গ্যাস ট্যাংকে থাকা গ্যাস সম্পূর্ণ নিঃশেষ হওয়ার পর আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে।
বাড়ি-গাড়ি পুড়ে ছাই
আগুনে ফিলিং স্টেশন ছাড়াও আশপাশের অন্তত ১০টি বসতবাড়ি ও ২০-২৫টি পর্যটক পরিবহনে ব্যবহৃত জিপ গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ জানান, ফিলিং স্টেশনটির কোনো অনুমোদন ছিল না। গ্যাস লিকেজ থেকেই বিস্ফোরণের সূত্রপাত হয়েছে। মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
আতঙ্কে স্থানীয় বাসিন্দারা
স্থানীয় বাসিন্দা তৌহিদুল ইসলাম বলেন, বিস্ফোরণের আগে থেকেই গ্যাসের তীব্র গন্ধে শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। বিস্ফোরণের পর পাম্পের ভেতরের কয়েকটি স্থানে আগুন ধরে পাশের স্থাপনাতেও ছড়িয়ে পড়ে। স্টেশনটির আশপাশের আদর্শগ্রাম, চন্দ্রিমা হাউজিং ও জেলখানা এলাকায় প্রায় ২০ হাজার মানুষের বসবাস।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সবুকতাগিন মাহমুদ সোহেল জানান, আহতদের মধ্যে ছয়জন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা ও চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছমি উদ্দিন বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। স্থানীয়দের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
ভয়াবহ এ বিস্ফোরণে কলাতলী এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে এখনও আতঙ্ক বিরাজ করছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও দায় নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
রিপোর্টার্স২৪/আরকে