রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নির্বাচনের পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নামে গেজেট প্রকাশিত হয়। সরকার ঘোষণা দিয়েছে, আইনে নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই আগামী ১২ মার্চ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসবে। ইতোমধ্যে ২৪ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি এ অধিবেশন আহ্বান করেছেন।
তবে প্রথম অধিবেশন ঘিরে সাংবিধানিক ও প্রক্রিয়াগত প্রশ্ন সামনে এসেছে। কারণ, ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হওয়া শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেছেন এবং ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু বর্তমানে দায়িত্ব পালনে অনুপস্থিত। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের প্রেক্ষাপটে এই শূন্যতা তৈরি হয়েছে।
সংবিধান কী বলছে?
সংবিধানের ৭৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকে সদস্যদের মধ্য থেকে একজন স্পিকার ও একজন ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার কথা। কোনো একটি পদ শূন্য হলে সাত দিনের মধ্যে, অথবা সংসদ অধিবেশন না থাকলে পরবর্তী প্রথম বৈঠকে তা পূরণ করতে হবে।
আরও বলা আছে, স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের পদ শূন্য হলে এবং দায়িত্ব পালনে কেউ সক্ষম না থাকলে জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী অন্য কোনো সদস্য সাময়িকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
রাষ্ট্রপতির মনোনয়ন কি সমাধান?
কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী, প্রথম অধিবেশন পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রপতি কাউকে মনোনীত করতে পারেন। সংসদ বিষয়ক গবেষক অধ্যাপক কে এম মহিউদ্দিনের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি ব্যতিক্রমী। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার দুই পদই কার্যত শূন্য থাকায় অধিবেশন পরিচালনায় সাংবিধানিক ব্যাখ্যার প্রয়োজন হতে পারে। তিনি বলেন, কার্যপ্রণালী বিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় রাষ্ট্রপতির মনোনয়নের মাধ্যমে কোনো সদস্যকে দায়িত্ব দেওয়া সম্ভব।
তবে বাস্তবে এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলেও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষাই মূল চ্যালেঞ্জ
সংবিধানে আরও উল্লেখ রয়েছে, স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের পদ শূন্য হলেও উত্তরসূরি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তারা পদে বহাল আছেন বলে গণ্য হবেন। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে কার্যকর দায়িত্ব পালনের প্রশ্নে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ১২ মার্চের প্রথম অধিবেশন ঘিরে সাংবিধানিক বিধান ও কার্যপ্রণালীর সমন্বয় ঘটিয়ে কীভাবে সংসদের কার্যক্রম শুরু হবে সেদিকেই এখন রাজনৈতিক মহল ও সচেতন নাগরিকদের নজর।
রিপোর্টার্স২৪/আরকে