স্পোর্টস ডেস্ক: নতুন সরকারের মন্ত্রীদের শপথ গ্রহণের পর বুধবার প্রথমবারের মতো সচিবালয়ে দায়িত্ব পালন শুরু করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। দায়িত্বের প্রথম দিনেই তিনি ক্রীড়া উন্নয়নে নয় দফা কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন। পাশাপাশি কোন অধীনস্থ সংস্থা কোন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে—সে সম্পর্কেও স্পষ্ট তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
সাবেক জাতীয় ফুটবলার আমিনুল হক গত দেড় বছর ধরে দেশের ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে তার পরিকল্পনার কথা বলে আসছিলেন। তার দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র নির্বাচনী ইশতেহারেও ক্রীড়া উন্নয়নের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছিল। প্রথম কর্মদিবসেই তিনি সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করলেন।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে রয়েছে চারটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা—জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, ক্রীড়া পরিদপ্তর, বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) এবং ক্রীড়া কল্যাণসেবী ফাউন্ডেশন। ঘোষিত কর্মসূচিগুলো এসব সংস্থার সমন্বয়ে বাস্তবায়িত হবে।
#খেলোয়াড়দের বেতন ও পেশাদার স্বীকৃতি
ফুটবল ও ক্রিকেটের বাইরে অন্যান্য খেলোয়াড়রা পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা পান না—এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে জাতীয় দলের সব খেলোয়াড়কে বেতনের আওতায় আনার পরিকল্পনা করেছেন প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করবে মন্ত্রণালয়ের ক্রীড়া অনুবিভাগ-১ ও ২, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এবং বিকেএসপি।
#প্রাথমিক স্তর থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক
চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনাও ঘোষিত হয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, বিকেএসপি এবং সংশ্লিষ্ট অনুবিভাগগুলো তদারকি করবে।
#দেশেই ক্রীড়া সরঞ্জাম উৎপাদন
দেশে ক্রীড়া সরঞ্জাম উৎপাদন ও ভবিষ্যতে রপ্তানির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে অধিকাংশ সরঞ্জাম আমদানি নির্ভর হওয়ায় স্থানীয় শিল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করবে মন্ত্রণালয় ও ক্রীড়া পরিদপ্তর।
#ব্যাংক-কর্পোরেট পৃষ্ঠপোষকতা
ফেডারেশনগুলোকে আর্থিকভাবে শক্তিশালী করতে ব্যাংক ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট খেলা বা ফেডারেশনের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ দায়িত্ব পালন করবে মন্ত্রণালয় ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ।
#তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়া বিস্তার
খেলাধুলাকে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অফিস স্থাপন ও ক্রীড়া অফিসার নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি দেখভাল করবে ক্রীড়া পরিদপ্তর। এছাড়া দেশের ৬৪ জেলায় ইনডোর ভিলেজ স্থাপনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিকেএসপিকে।
শপথ নেওয়ার পর মিরপুর পল্লবীতে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ক্রীড়া উন্নয়নে সবার সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি প্রথমেই ক্রীড়া সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের আগ্রহ প্রকাশ করেন। সেই অনুযায়ী আগামী রোববার দুপুরে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (ক্রীড়া) আমিনুল এহসান এ সংক্রান্ত চিঠি তিনটি ক্রীড়া সাংবাদিক সংগঠনের কাছে পাঠিয়েছেন।
প্রথম কর্মদিবসেই স্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করায় ক্রীড়াঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।