স্টাফ রিপোর্টার: থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) যেন কখনো সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফোন না করেন—এমন কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পাশাপাশি তদবির ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণের ঘোষণা দেন তিনি।
সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সেখানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন স্তরের সচিব ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ঢাকার পুলিশ কমিশনার ও ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজিও অংশ নেন।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শুরুতে কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিত হন। পরে বক্তব্যে তিনি বলেন, যেকোনো মূল্যে চেইন অব কমান্ড বজায় রাখতে হবে এবং পুলিশের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করা যাবে না। থানার ওসির ফোন যেন সরাসরি মন্ত্রীর কাছে না আসে—এ বিষয়ে তিনি কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে উপস্থিত পদস্থ এক কর্মকর্তা জানান, প্রথম বৈঠকেই মন্ত্রী মন্ত্রণালয় পরিচালনায় স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। কর্মকর্তাদের নিজ নিজ দায়িত্বে মনোযোগী থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি কাজের বাইরে অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে সম্পৃক্ত না হওয়ার পরামর্শ দেন।
মন্ত্রণালয়ের বাইরে তাঁকে নিয়ে টানানো একটি ব্যানারের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, এ ধরনের বিষয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের জন্য প্রযোজ্য; কর্মকর্তাদের পেশাদারত্ব বজায় রাখতে হবে। তাঁরা তাঁদের কাজ করবেন, এসব নয়,—বলেন তিনি।
গত ১৭ বছরের পুলিশি কার্যক্রমের প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অতীত নিয়ে তিনি পেছনে ফিরতে চান না। নিজেও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সামনে এগিয়ে গিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই হবে প্রধান লক্ষ্য। কাজের মূল্যায়নে তিনি বিশ্বাসী বলেও জানান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক কর্মকর্তা জানান, মন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন—কোনো ধরনের তদবির গ্রহণযোগ্য হবে না এবং দুর্নীতির ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করা হবে। বাহিনীর কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে তাৎক্ষণিক তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সড়কে জনগণের ভোগান্তির বিষয়েও গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, জনগণকে দুর্ভোগে ফেলে কোনো কর্মসূচি নেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে রাস্তার এক লেন চালু রেখে কর্মসূচি পরিচালনার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রায় ৪৫ মিনিটের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে দাবি আদায়ের নামে কোনো ধরনের ‘মব কালচার’ সহ্য করা হবে না। দাবি-দাওয়া যথাযথ প্রক্রিয়ায় উত্থাপন করতে হবে। গণতান্ত্রিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে, তবে মহাসড়ক অবরোধ বা বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না।
পুলিশ বাহিনী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলতে সাধারণ মানুষ মূলত পুলিশকেই বোঝে। পুলিশকে জনগণের বন্ধু হিসেবে গড়ে তুলতে হবে এবং অতীতে ক্ষুণ্ন হওয়া ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে কাজ করতে হবে।
আইজিপিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কয়েকজন কর্মকর্তার বৈঠকে অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাঁরা আগে দেখা করে গেছেন এবং অন্য কাজে ব্যস্ত ছিলেন। আইজিপি পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।
এর আগে বিকেলে মন্ত্রণালয়ে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানানো হয় এবং গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। সকালে সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর নামফলক সরিয়ে নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেমপ্লেট স্থাপন করা হয়। মন্ত্রণালয়ের প্রবেশপথ, করিডর ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতেও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সাজসজ্জার কাজ সম্পন্ন করা হয়।