স্টাফ রিপোর্টার: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করেছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেন নতুন সরকারের সদস্যরা। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সংবিধান অনুযায়ী, সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী দেশের সরকার প্রধান এবং জাতীয় সংসদের নেতা। রাষ্ট্র পরিচালনার নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতেই ন্যস্ত থাকে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বেই মন্ত্রিসভা গঠিত হয় এবং তিনি মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন করেন। প্রশাসনিক কার্যক্রম তদারক, নীতিনির্ধারণ, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক কৌশল প্রণয়নসহ রাষ্ট্র পরিচালনার সার্বিক দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর ওপর বর্তায়।
#প্রধানমন্ত্রীর বেতন ও আর্থিক সুবিধা:
‘দ্য প্রাইম মিনিস্টার’স (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) অ্যাক্ট’-এর আওতায় প্রধানমন্ত্রীর বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নির্ধারিত। ২০১৬ সালে সংশোধিত আইনে প্রধানমন্ত্রীর মাসিক মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা। এর পাশাপাশি মাসিক ব্যয়ভাতা হিসেবে তিনি পান ১ লাখ টাকা।
রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের সময় প্রধানমন্ত্রীর জন্য দৈনিক ভাতা নির্ধারিত রয়েছে ৩ হাজার টাকা। আকাশপথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে দুর্ঘটনা ঝুঁকি বিবেচনায় ২৫ লাখ টাকার বীমা সুবিধা দেওয়া হয়। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর বার্ষিক স্বেচ্ছাধীন তহবিলের পরিমাণ নির্ধারিত আছে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা, যা বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক বা বিশেষ প্রয়োজনে ব্যবহার করা যায়।
প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয়ভাবে সুরক্ষিত ও সুসজ্জিত সরকারি বাসভবন এবং প্রয়োজনীয় জনবলসহ দাপ্তরিক কার্যালয় ব্যবহার করেন। তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের জন্য সরকারি খরচে দেশে এবং প্রয়োজনে বিদেশে উন্নত চিকিৎসা সুবিধাও নিশ্চিত করা হয়।
#মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের বেতন-ভাতা:
মন্ত্রিসভায় ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। এছাড়া মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় ১০ জন উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
একজন মন্ত্রী মাসিক মূল বেতন পান ১ লাখ ৫ হাজার টাকা। ডেপুটি স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা ও চিফ হুইপ একই পরিমাণ বেতন পান। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রীদের বেতনের ওপর কোনো আয়কর প্রযোজ্য নয়।
মন্ত্রীরা দৈনিক ভাতা হিসেবে পান ২ হাজার টাকা। মাসিক নিয়ামক ভাতা ১০ হাজার টাকা এবং স্বেচ্ছাধীন তহবিল বাবদ বছরে ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকে। মোবাইল ফোন কেনার জন্য এককালীন ৭৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এছাড়া সরকারি খরচে সার্বক্ষণিক গাড়ি সুবিধা এবং ঢাকার বাইরে দাপ্তরিক সফরের জন্য অতিরিক্ত একটি জিপ গাড়ি পান, যার সব ব্যয় সরকার বহন করে।
মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা সরকারি খরচে রেল ও বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ পান। তারা ভাড়ামুক্ত সরকারি বাসভবন ব্যবহার করতে পারেন। সরকারি বাসভবনের গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, টেলিফোনসহ রক্ষণাবেক্ষণের সব ব্যয় সরকার বহন করে। বাসভবনে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা মূল্যের আসবাবপত্র সরবরাহ করা হয়। যদি কেউ সরকারি বাসভবনে না থাকেন, তবে তিনি বাড়িভাড়া বাবদ মাসিক ৮০ হাজার টাকা এবং বাড়ি ব্যবস্থাপনা ব্যয়সহ অন্যান্য বিল সুবিধা পান।
#সংসদ সদস্যদের প্রাপ্যতা:
একজন সংসদ সদস্য তার নির্বাচনী এলাকার ভাতা হিসেবে মাসিক ১২ হাজার ৫০০ টাকা পান। এছাড়া শুল্কমুক্তভাবে গাড়ি আমদানির সুবিধা এবং নির্বাচনী এলাকায় অফিস পরিচালনার জন্য মাসিক ১৫ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকে।
তবে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা ডিউটি-ফ্রি গাড়ি ও সরকারি প্লট গ্রহণ করবেন না। দলীয় সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ব্যয়সংকোচন ও জনমুখী অবস্থান প্রদর্শনের অংশ হিসেবেই এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
#নতুন সরকারের কাঠামো:
নতুন মন্ত্রিসভা মোট ৫০ সদস্য নিয়ে গঠিত হয়েছে। এতে ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী, ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী এবং পদমর্যাদাসম্পন্ন ১০ জন উপদেষ্টা রয়েছেন। নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দ্রুত সরকার গঠন ও শপথ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার।
রাষ্ট্র পরিচালনার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের জন্য নির্ধারিত বেতন-ভাতা ও সুবিধা সরকারি আইনেই সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ আছে। নতুন সরকারের কার্যক্রম শুরুর সঙ্গে সঙ্গে এসব আর্থিক কাঠামোও কার্যকর হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি