স্টাফ রিপোর্টার: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও কুমিল্লা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজি আমিনুর রশীদ ইয়াছিন। তবে দলীয় সিদ্ধান্তে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর পরই তার রাজনৈতিক জীবনে আসে বড় পরিবর্তন। নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় টেকনোক্রেট মন্ত্রী হিসেবে জায়গা পেয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত শপথ অনুষ্ঠানে ইয়াছিন মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে শপথবাক্য পাঠ করান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে গঠিত নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৬ (সদর) আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করেও তা পাননি ইয়াছিন। এরপর তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন এবং মাঠ পর্যায়ে প্রস্তুতিও শুরু করেন। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
পরে দলের চেয়ারম্যান দেশে ফিরে তাকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। দলীয় শৃঙ্খলা ও সিদ্ধান্তকে প্রাধান্য দিয়ে ইয়াছিন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। একইসঙ্গে তাকে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার নির্বাচনী কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলের প্রতি আনুগত্য ও সাংগঠনিক ভূমিকার কারণেই তিনি পরবর্তীতে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হন।
আমিনুর রশীদ ইয়াছিন কুমিল্লা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৯ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২০০৮ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর প্রার্থী হিসেবে কুমিল্লা-৬ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে তার দীর্ঘ সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা ও অভিজ্ঞতা তাকে দলীয় নেতৃত্বের আস্থাভাজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করে বিএনপি। ৫০ সদস্যবিশিষ্ট মন্ত্রিসভায় ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। পাশাপাশি মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় ১০ জন উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
নতুন সরকারের অংশ হিসেবে টেকনোক্রেট মন্ত্রী হিসেবে ইয়াছিনের অন্তর্ভুক্তি রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো এক নেতার মন্ত্রিসভায় জায়গা পাওয়া দলীয় কৌশল ও নেতৃত্বের বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
রিপো্র্টার্স২৪/বাবি