সিনিয়র রিপোর্টার: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশের অর্থনীতি ছিল ‘বিপর্যস্ত ও তলাবিহীন’। ব্যাংকিং খাত পুনর্গঠন, রাজস্ব ও করনীতিতে সংস্কার এবং মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করা সম্ভব হয়েছে।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সোয়া ৯টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া বিদায়ী ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি জানান, এখন আর আন্তর্জাতিক লেনদেন নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকতে হচ্ছে না। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে এবং প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক ধারা ফিরে এসেছে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকার সরবরাহ বৃদ্ধি, বাজার তদারকি জোরদার এবং টিসিবির কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। শ্রমিক অধিকার সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ কনভেনশন অনুসমর্থন এবং নতুন শ্রম আইন প্রণয়নের বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন।
ড. ইউনূস বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রযন্ত্র সচল করাই ছিল সবচেয়ে কঠিন কাজ। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে অস্থিরতা ও আস্থার সংকট মোকাবিলা করে ধাপে ধাপে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
তিনি জানান, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের অংশ হিসেবে অন্তত ১৩০টি নতুন আইন ও সংশোধনী প্রণয়ন এবং প্রায় ৬০০ নির্বাহী আদেশ জারি করা হয়েছে, যার ৮৪ শতাংশ ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে নাগরিক অধিকার সংহতকরণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ এবং গুম-খুন-বিচারবহির্ভূত হত্যার সংস্কৃতি রোধে কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় গঠন, স্বচ্ছ নিয়োগ কাঠামো প্রবর্তন এবং দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনে সংশোধনের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
গুমকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে সংশোধনের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন ছিল উৎসবমুখর, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ। ব্যাপক সাংবিধানিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে জুলাই সনদের ওপর গণভোটও সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বিজয়ী ও পরাজিত সব প্রার্থীকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, হার-জিতই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য এবং এই নির্বাচন ভবিষ্যতের জন্য একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে থাকবে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি