স্টাফ রিপোর্টার: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। আগামী মঙ্গলবার, জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায়, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে চীন, ভারত, পাকিস্তান, জাপান, রাশিয়া, সৌদি আরব, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিয়ানমার, ভিয়েতনাম, বাংলাদেশি-প্রবাসী সম্প্রদায় প্রতিনিধি এবং মোট ১৩ দেশের সরকারপ্রধান ও উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
শনিবার রাতে অন্তর্বর্তী সরকারের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানের মর্যাদা এবং আন্তর্জাতিক গুরুত্বকে সামনে রেখে আমরা বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে প্রতিনিয়ত কূটনৈতিক যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছি। পাশাপাশি রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, সকালেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সকল সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করবেন। তাদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। বিকেলে শপথ নেবেন প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যরা। সংবিধান অনুযায়ী মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণ করাবেন রাষ্ট্রপতি।
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই নতুন সরকারের গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিএনপি ও তাদের জোটের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোট গ্রহণ হয়েছে, যেখান থেকে তারা দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়লাভ করেছে। নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় আইন মন্ত্রণালয়, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানিয়েছে, শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে নিরাপত্তা এবং প্রটোকল সংক্রান্ত প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। দক্ষিণ প্লাজা এলাকা, যেখানে অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে, সেখানে প্রবেশপথ, দর্শক ও অতিথি স্থান নির্ধারণ এবং মিডিয়া ব্যবস্থাপনার জন্য বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়ে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ রুট এবং হোটেল, সরকারী ভবন ও দূতাবাস এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বজায় রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
কূটনৈতিক পর্যায়েও প্রস্তুতি ত্বরান্বিত করা হয়েছে। আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য নিরাপদ যাতায়াত, হোটেল এবং অনুষ্ঠানের স্থান সমন্বয় করা হচ্ছে। এতে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানের আন্তর্জাতিক গুরুত্ব তুলে ধরা হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃঢ়তা এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্ক দৃঢ় রাখার লক্ষ্য রয়েছে।
নির্বাচন ও নতুন সরকারের গঠনের এই মুহূর্তকে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্তরে রাজনৈতিক দৃঢ়তা প্রদর্শনের জন্য সরকার এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি