বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাট সদর উপজেলার বারুইপাড়া এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকায় বেশ কয়েকদিন ধরেই দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। বুধবার রাতে হঠাৎ করেই উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়, যা একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উভয় দলের অন্তত আটজন আহত হন।
জামায়াতের অভিযোগ, ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকরা ভোটারদের মাঝে টাকা বিতরণের উদ্দেশ্যে এলাকায় বেরিয়েছিল। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় জামায়াত কর্মীরা সেখানে গেলে বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে জামায়াতের ছয়জন কর্মী আহত হন। আহতরা হলেন—তুহিন শেখ, হাবিবুর রহমান শেখ, গোলাম মোস্তফা, শিমুল শেখ, মো. হাসিবুল ও আলী মল্লিক। তাদের ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
বাগেরহাট-২ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট অ্যাডভোকেট মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, ধানের শীষের পক্ষে স্থানীয় লিটু মেম্বারসহ বিএনপির কিছু নেতাকর্মী ভোটারদের মাঝে টাকা বিতরণ করছিল। খবর পেয়ে আমাদের কর্মীরা সেখানে গেলে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এতে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে।
অন্যদিকে বিএনপির দাবি ভিন্ন। বারুইপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শেখ গোলাম মাসুদ বলেন, ৮ থেকে ১০ জন জামায়াতের লোকজন বাড়ি বাড়ি গিয়ে টাকা ও লিফলেট বিতরণ করছিল। আমাদের কর্মীরা তাদের বাধা দিলে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। তিনি জানান, বিএনপির ভাস্কর চক্রবর্তী ও সেলিম শেখ নামে দুই কর্মী আহত হয়েছেন। তাদের মাথায় আঘাত লাগে এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
তবে উভয় পক্ষের অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আকস্মিক এই সংঘর্ষে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই নিরাপত্তার কারণে ঘর থেকে বের হননি।
এ বিষয়ে বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান বলেন, সংঘর্ষের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্বাচনকে ঘিরে এলাকায় যাতে আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি