ফারহানা জামান: নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ না নিলেও ভোটার উপস্থিতি কমবে না। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে সহিংসতা সৃষ্টিকারীরা বেশি সুযোগ পাবে না।
বুধবার রাজধানীর নির্বাচন ভবনে দেশি-বিদেশি সংবাদকর্মী ও পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে এক বিশেষ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, নির্বাচনি স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকরা ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন এবং ভিডিও চিত্র ধারণ করতে পারবেন। তবে কোনোভাবেই গোপন বুথের ভেতর থেকে সরাসরি সম্প্রচার বা ভোটারদের সাক্ষাৎকার নেওয়া যাবে না। ভোটের গোপনীয়তা ও ভোটারদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতেই এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তবে ভোটকেন্দ্রের প্রাঙ্গণে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভোটারদের সঙ্গে কথা বলা বা সরাসরি সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকবে না।
নির্বাচন কমিশনার আরও উল্লেখ করেন, এবারের ভোটার তালিকায় তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিশেষ আইনি সংস্কার করা হয়েছে। গত ১৫ অক্টোবরকে ভিত্তি ধরে অতিরিক্ত ১২ লাখ নতুন তরুণ ভোটারকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা তরুণ প্রজন্মের নির্বাচনি অনীহা দূর করতে সহায়ক হবে। এছাড়া তথ্য হালনাগাদের মাধ্যমে তালিকা থেকে ২০ লক্ষাধিক মৃত ব্যক্তির নাম বাদ দেওয়া হয়েছে এবং নারী-পুরুষ ভোটারের আনুপাতিক ব্যবধান উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হয়েছে। বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত ১৬টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ১৩টি দল এই নির্বাচনে সরাসরি অংশ নিচ্ছে।
এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল করতে বিগত ৯ মাস ধরে ব্যাপক লজিস্টিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, যেখানে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) ও বিভিন্ন সহযোগী রাষ্ট্র কারিগরি সহায়তা প্রদান করেছে। নির্বাচন ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তাকে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে ইসি সানাউল্লাহ জানান, আইটি-সমর্থিত উন্নত পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রবাসীদের নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত নিবন্ধিত ১৫ লাখ পোস্টাল ব্যালটের মধ্যে প্রায় ৯ লাখ ব্যালট সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের হাতে পৌঁছেছে। আগামীকাল বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত এই ব্যালট গ্রহণের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। যারা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিচ্ছেন, তারা যেন সশরীরে কেন্দ্রে গিয়ে দ্বৈত ভোট দিতে না পারেন, সেজন্য মূল ভোটার তালিকায় বিশেষ ‘ওয়াটারমার্ক’ ব্যবহার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, আগামীকালের নির্বাচনে সারা দেশে প্রায় ৩১ হাজার সাধারণ ভোটকেন্দ্রের পাশাপাশি নারী ও পুরুষদের জন্য পৃথক ৫ হাজার করে বিশেষ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারসহ প্রয়োজনীয় সংখ্যক পোলিং অফিসার মোতায়েন থাকবেন। প্রতিটি বুথে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে, যাতে ভোটগ্রহণের প্রতিটি পর্যায়ে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা বজায় থাকে। সীমানা নির্ধারণ এবং ভোটকেন্দ্র নির্বাচনের কাজ অত্যন্ত সূক্ষ্ম বিচার-বিশ্লেষণের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে বলে ব্রিফিংয়ে দাবি করা হয়েছে। কমিশন সব বাধা কাটিয়ে একটি সফল ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন করতে তাদের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন