রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: বিশ্বের সর্বনিম্ন জন্মহারের দেশ দক্ষিণ কোরিয়ায় জনসংখ্যা সংকট মোকাবিলায় ভিয়েতনাম ও শ্রীলঙ্কা থেকে তরুণী ‘আমদানি’র বিতর্কিত প্রস্তাব দিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন এক সরকারি কর্মকর্তা। কুরুচিপূর্ণ ও মানবাধিকারবিরোধী মন্তব্যের জেরে শেষ পর্যন্ত তাকে ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক পার্টি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
গত সপ্তাহে এক টাউন হল বৈঠকে জিন্দো কাউন্টির প্রধান কিম হি-সু প্রস্তাব দেন, গ্রামীণ এলাকার অবিবাহিত তরুণদের জন্য ভিয়েতনাম ও শ্রীলঙ্কা থেকে তরুণীদের এনে বিয়ের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। বৈঠকের ভিডিও টেলিভিশনে প্রচারিত হওয়ার পরই দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
‘নারীদের পণ্য বানানোর প্রস্তাব’
কিমের মন্তব্যকে মানবাধিকারকর্মীরা ‘নারীদের পণ্য হিসেবে বিবেচনার শামিল’ এবং ‘অভিবাসী নারীদের প্রতি অবমাননাকর দৃষ্টিভঙ্গি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। ঘটনার পরপরই দক্ষিণ কোরিয়ায় নিযুক্ত ভিয়েতনাম দূতাবাস কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দেয়। তারা বলেছে, এ ধরনের বক্তব্য অভিবাসী নারী ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর প্রতি অগ্রহণযোগ্য মনোভাবের প্রতিফলন।
তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত শ্রীলঙ্কা কর্তৃপক্ষ প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
জনসংখ্যা সংকটের প্রেক্ষাপটে বিতর্ক
দক্ষিণ কোরিয়ার বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ৫ কোটি। তবে চলমান জন্মহারের পতন অব্যাহত থাকলে আগামী ৬০ বছরের মধ্যে জনসংখ্যা অর্ধেকে নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই ‘জনতাত্ত্বিক ধস’ নিয়ে আলোচনার সময়ই গ্রামীণ জনশূন্যতা দূর করার অজুহাতে কিম হি-সু এই মন্তব্য করেন।
ক্ষমা চাইলেও রক্ষা হয়নি
সমালোচনার মুখে কিম হি-সু দ্রুত ক্ষমা প্রার্থনা করে বলেন, তার ব্যবহৃত শব্দগুলো ছিল ‘অনুপযুক্ত’ এবং তিনি গ্রামীণ সমস্যার গুরুত্ব তুলে ধরতে চেয়েছিলেন মাত্র। দক্ষিণ জেওল্লা প্রদেশের কর্তৃপক্ষও আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে। তবে তাতে জনরোষ প্রশমিত হয়নি।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ডেমোক্রেটিক পার্টির সুপ্রিম কাউন্সিল সর্বসম্মতিক্রমে কিম হি-সুকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়।
বিক্ষোভের ডাক
এদিকে নারী ও অভিবাসী অধিকার রক্ষায় নিয়োজিত সংগঠনগুলো এই মন্তব্যের প্রতিবাদে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) জিন্দো কাউন্টি অফিসের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
রিপোর্টার্স২৪/আরকে