আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মিশরের রাজধানী কায়রোতে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী। এই পাঁচ দিনব্যাপী বৈশ্বিক অধিবেশন মানবাধিকার, ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং সামাজিক সহনশীলতা নিয়ে গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ উপস্থাপন করে।
''Complementarity Between Religions and Human Rights'' শীর্ষক এই আন্তর্জাতিক অধিবেশনটির আয়োজক ছিল জাতিসংঘ এবং আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে, সহযোগী হিসেবে যুক্ত ছিল ব্রিটিশ ইউনিভার্সিটি ইন ইজিপ্ট (BUE), আল-আজহার অবজারভেটরি ফর কমবেটিং এক্সট্রিমিজম, জাতিসংঘের হিউম্যান রাইটস কাউন্সিল এবং ডমিনিকান ইনস্টিটিউট।
সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, কঠোর বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে—লিখিত প্রোপোজাল এবং একাধিক ধাপে পরীক্ষা, হাজারো আবেদনকারীর মধ্যে মাত্র ৩০ জন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়, যাদের মধ্যে দুইজন ছিলেন বাংলাদেশি।
আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মুহাম্মদ জায়েদ তরফদার দক্ষিণ এশিয়ায় মিশনারি সংঘাতের প্রভাব এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক অধিকার ও বাকস্বাধীনতার বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তার গবেষণায় আঞ্চলিক বাস্তবতা, সামাজিক প্রভাব এবং মানবাধিকারের আন্তঃসম্পর্ক গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপিত হয়।
অন্যদিকে কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইয়্যেদ গোলাম মাওলা রেজভী বাংলাদেশে সংঘটিত মব ভায়োলেন্স এবং ব্যক্তিগত বিশ্বাসের অধিকার (Right to Faith) বিষয়ক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তার প্রস্তাবনা সামাজিক সহনশীলতা ও আইনের শাসনের আলোকে উপস্থাপন করা হয়, যা আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
অধিবেশনের মূল আলোচনার মধ্যে ছিল বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় ধর্ম ও মানবাধিকারের সমন্বয়, পোপ ফ্রান্সিস ও শাইখুল আজহারের মধ্যকার ঐতিহাসিক শান্তি বার্তার প্রেক্ষাপট। এই দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর গবেষণা সময়োপযোগী এবং সাহসী হিসেবে প্রশংসা পায় জাতিসংঘের প্রতিনিধিদের কাছেও।
অধিবেশন শেষে অংশগ্রহণকারীদের কায়রোর ঐতিহাসিক ধর্মীয় ও প্রশাসনিক স্থাপনাসমূহ পরিদর্শনে নেওয়া হয়, যেখানে মিশরের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সহাবস্থান এবং ধর্মীয় সহনশীলতার বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীদের হাতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।
আয়োজকরা ভবিষ্যতে এই দুই শিক্ষার্থীকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংরক্ষণ, ধর্মীয় সম্প্রীতি জোরদার এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান প্রতিষ্ঠায় বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানান।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি