জেলা প্রতিনিধি বরগুনা: সকল প্রার্থীর জন্য সমান সুবিধা দেয়ার কথা থাকলেও বর্তমান প্রশাসন নির্দিষ্ট দলের ভক্ত হিসেবে কাজ করছে বলে দাবি করেছেন বরগুনা-২ আসনের স্বতন্ত্র সাংসদ প্রার্থী মো. রাশেদুজ্জামান খান৷
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার পদ্মা এলাকার এক পথসভায় বরগুনা-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী জাহাজ প্রতীকের মো. রাশেদুজ্জামান খান বলেন, প্রশাসন বরাবরই দলীয়করণ হয়েছে, এখনো তারা দলীয়করণের ভেতরেই আছে। কারণ অন্যান্য দলের ব্যানার থাকে, আমার ব্যানার থাকে না। তাহলে প্রশাসনের নজরদারি কোথায়। আমি অনেক আগে থেকেই বলেছি আপনারা এটা একটু দেখেন। তাদের নজর কোথায় আছে আমি জানি না। আজ পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তারা নির্দিষ্ট দলের ভক্তই আছেন এখন পর্যন্ত।
রাশেদুজ্জামান আরো বলেন, আমি আজকের আয়োজন সম্পর্কে পাথরঘাটা থানাকে জানিয়েছি, কিন্তু ঝুকি থাকা সত্বেও কোনো লোক এখানে দেয়নি। কিন্তু আমি দেখলাম ফেরিতে করে পীর সাহেব চরমোনাই আসছে, তখন ফেরির ভেতরে ডিবি’র লোক পর্যন্ত আছে। কিন্তু আমাদের নিরাপত্তা দেয়া হয়নি,নিরাপত্তা সবারই দরকার আছে। এখানে যারা আছে তারা আমাকে ভালোবেসে আসছে। সুতরাং আমি মনে করি এরাই আমার নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট।
তিনি বলেন, আমি ১% ভোটের জন্য অ্যাপ্লাই করেছিলাম, তখন আমার উপরে যে পরিমাণ হুমকি-ধামকি দেওয়া হয়েছে এই ১% ভোট আমি যাদের থেকে নিয়েছি তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিয়েছে এবং তাদেরকে টাকা দিয়ে বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখিয়েছে। তারা যাতে আমার পক্ষে কথা না বলে। কিন্তু কই, তারা তো বাধা দিয়ে রাখতে পারে নাই। জনগণের বিজয় তো হয়েছেই। সুতরাং নিরাপত্তা স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা রাব্বুল আলামিন আমাদেরকে এই জনগণের মাধ্যমে করে দিচ্ছে, আমরা এটাতেই সন্তুষ্ট।
এই পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রিপাবলিক পার্টির সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. মেহেদী হাসান। তিনি বলেন, আমি কর্মজীবনে এই প্রত্যন্ত এলাকায় কাজ করেছি। এখানে মানুষরা জেলে পেশায় যুক্ত। তারা প্রতিনিয়ত দস্যুতা, চাঁদাসহ নানান নির্যাতনের শিকার হয়। এবিষয়ে বিগত সাংসদদের সঙ্গে কথা বলেও কোনো উপকার হয়নি। আজ এখানে তরুন রাশেদুজ্জামান খান প্রার্থী হয়েছেন। আশাকরি ১২ তারিখ জাহাজ প্রতিকে ভোট দিয়ে তাকে জয়যুক্ত করবে এখান করা জনগন।
এদিকে সম্প্রতি বরগুনায় আসেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু ফজল মো.সানাউল্লাহ। তিনি বলেন,‘নির্বাচন কমিশন সহ নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের চোখে সকল প্রার্থী সমান। এবং এটা শুধু মুখে নয় আমাদের কাজের মাধ্যমে প্রতিফলিত করতে হবে। নির্বাচন কমিশন বা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি বা হবেনা। তবুও যদি কেউ ব্যাক্তিগত ইচ্ছা-অনিচ্ছা বা পছন্দ-অপছন্দের উর্ধ্বে উঠতে না পারেন এবং পক্ষপাত প্রদর্শন করেন তার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন ভয়ানক কঠিন হবে। নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণ করবে ভোটার, অন্য কেউ নয়।
পাথরঘাটা,বামনা ও বেতাগী উপজেলা নিয়ে বরগুনা ২ আসন গঠিত। এ আসনে ভোটার রয়েছে ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৭৪৪ জন। ভোটকেন্দ্র রেয়েছে ১২২ টি। ৯ জন প্রার্থী সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন৷
রিপোর্টার্স২৪/মিতু