রিপোর্টার্স২৪ডেস্ক: ভারতের হিমালয়কন্যা রাজ্য সিকিমে গত কয়েক ঘণ্টায় একের পর এক ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। অন্তত আট থেকে ১০ দফা কম্পনে কেঁপে উঠেছে গ্যাংটক, নামচি ও মাঙ্গান এলাকা। এই ভূমিকম্পের প্রভাব সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশেও অনুভূত হয়েছে, বিশেষ করে রংপুর বিভাগের একাধিক জেলায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত সিকিমে ধারাবাহিকভাবে ভূকম্পন অনুভূত হয়। এতে আতঙ্কে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন অনেক বাসিন্দা। বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর না মিললেও পরিস্থিতি ঘিরে সতর্কতা জারি রাখা হয়েছে।
ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস) এবং মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পগুলোর উৎপত্তিস্থল ছিল সিকিমের নামচি ও মাঙ্গান এলাকায়।
বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ১টা ৩৯ মিনিটে প্রথম বড় কম্পনটি অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৬। এরপর রাত ২টা ২০ মিনিটে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার আরেকটি কম্পন এবং ভোর ৩টা ১১ মিনিটে ৪ দশমিক ০ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়। ভোর ৬টা পর্যন্ত অন্তত আরও পাঁচ থেকে ছয়টি ছোট আকারের আফটারশক শনাক্ত হয়েছে।
ভূমিকম্পগুলোর গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ৫ থেকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে। অগভীর গভীরতার কারণে কম্পনের প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি অনুভূত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সিকিমে সৃষ্ট এই ভূমিকম্পের কম্পন বাংলাদেশেও অনুভূত হয়। রংপুর, নীলফামারী, পঞ্চগড়, দিনাজপুর, নওগাঁ ও রাজশাহী জেলার বিভিন্ন এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার কম্পনে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সিকিম ও সংলগ্ন হিমালয় অঞ্চল একটি সক্রিয় ফল্ট লাইনের ওপর অবস্থিত। বড় বা মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পের পর পরই ছোট ছোট আফটারশক হওয়া স্বাভাবিক ঘটনা। তবে এ ধরনের ভূকম্পন ভবিষ্যতে বড় ঝুঁকির ইঙ্গিত বহন করতে পারে বলে সতর্ক করেন তারা।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি