প্রিন্ট এর তারিখঃ | বঙ্গাব্দ || প্রকাশের তারিখঃ 04-02-2026 ইং
সংবাদ শিরোনামঃ যে কোনো মূল্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে: জামায়াতে আমির
নীলফামারী প্রতিনিধি: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তিস্তা এ অঞ্চলের অহংকার। তিস্তা হবে উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু। যে কোনো কিছুর বিনিময় হলেও আমরা তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবো। বুড়িমারী স্থলবন্দরের উন্নয়ন, সড়ক ও রেলপথের আধুনিকায়ন করা হবে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারাজ হেলিপ্যাড মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতের আমির বলেন, উত্তরাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। এই অঞ্চল থেকেই উন্নয়নের বীজ রোপণ করা হবে। দীর্ঘদিন একটি মহল জাতিকে বিভক্ত করে মতলববাজি, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির ব্যবসা করেছে। আমরা এসব বন্ধ করতে চাই। উত্তরাঞ্চলকে কৃষি শিল্পের রাজধানীতে পরিণত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, কেউ কেউ ভয় পাচ্ছেন, কিন্তু ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। আমরা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবো। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমরা জীবন দেবো, তবু আমাদের মা-বোনদের গায়ে হাত দিতে দেবো না। নারী সমাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কেউ কেউ প্রথমে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ছিলেন না। পরে পরিস্থিতি খারাপ দেখে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে কথা বলছেন। আমরা বসন্তের কোকিল নই। আমরা দেশ ছেড়ে পালাই না। আমরা দেশে আছি, দেশেই থাকবো।
দীর্ঘদিন রাষ্ট্র পরিচালনাকারী দলগুলোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, এ দেশের মানুষ তোমাদের অনেক দেখেছে, এখন বিশ্রামে যাও। এবার আমাদের একটু সুযোগ দাও। আমরা বসন্তের কোকিল নই, আমরা দেশের উন্নয়ন করবো।
তিনি বলেন, তারা রাজনীতির নামে দুর্নীতি করেছে। দুর্নীতি আর রাজনীতি একসঙ্গে চলতে পারে না। তাদের রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই। আমরা দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়বো।
জামায়াতের আমির বলেন, আমি শুধু জামায়াতের বিজয় চাই না, আমি ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। আমি ‘হ্যাঁ’ ভোটের বিজয় চাই। ‘হ্যাঁ’ ভোটের বিজয় মানেই জনতার বিজয়। এর মাধ্যমেই একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।
লালমনিরহাট জেলা জামায়াতের আমির ও লালমনিরহাট-৩ আসনের প্রার্থী আবু তাহেরের সভাপতিত্বে জনসভায় ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। এর আগে জামায়াতের আমির কুড়িগ্রাম থেকে হেলিকপ্টারে করে তিস্তা ব্যারাজ হেলিপ্যাড মাঠে পৌঁছান।
তিনি বলেন, মানুষ পরিবর্তন চায়। এবারের নির্বাচন কোনো সাধারণ নির্বাচন নয়। এবার দুটি ভোট—একটি ‘হ্যাঁ’, একটি প্রার্থীর জন্য। ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, ‘না’ মানে গোলামি। ‘হ্যাঁ’ ভোট মা-বোনদের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে। আপনারা প্রথম ভোটটি ‘হ্যাঁ’-তে দেবেন এবং দ্বিতীয় ভোটটি ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীকে দিয়ে ইনসাফ কায়েম করবেন।