আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আরব সাগরে মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন-এর দিকে ‘আগ্রাসীভাবে’ এগিয়ে আসা একটি ইরানি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছে মার্কিন সেনাবাহিনী। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্তৃপক্ষ।
রয়টার্সের একচেটিয়া প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য পারমাণবিক আলোচনার উদ্যোগের মধ্যেই এই ঘটনা ঘটল। এ পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ইরানের উপকূলের দিকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ এগিয়ে যাওয়ার পর কোনো সমঝোতা না হলে ‘খারাপ কিছু’ ঘটতে পারে।
ড্রোনটি ভূপাতিত হওয়ার খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি এক ডলারের বেশি বেড়ে যায়।
মার্কিন সেনাবাহিনী জানায়, ইরানের তৈরি শাহেদ-১৩৯ মডেলের ড্রোনটি ‘অস্পষ্ট উদ্দেশ্য’ নিয়ে বিমানবাহী রণতরীর দিকে উড়ছিল। পরে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন থেকে উড্ডয়ন করা একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ড্রোনটিকে গুলি করে ভূপাতিত করে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স বলেন, আত্মরক্ষা এবং রণতরী ও তাতে থাকা নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আব্রাহাম লিংকন থেকে পরিচালিত একটি এফ-৩৫সি যুদ্ধবিমান ইরানি ড্রোনটি ধ্বংস করেছে।
এই ঘটনায় কোনো মার্কিন সেনাসদস্য হতাহত হননি এবং যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সামরিক সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতিও হয়নি বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে জাতিসংঘে ইরানের মিশন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানায়, আন্তর্জাতিক জলসীমায় একটি ড্রোনের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, যদিও এর কারণ সম্পর্কে তারা কিছু জানায়নি।
ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক শক্তি বৃদ্ধির সবচেয়ে দৃশ্যমান অংশ। গত মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ কঠোরভাবে দমনের পর এই শক্তি মোতায়েন জোরদার করা হয়। ওই দমন-পীড়ন ছিল ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর দেশটিতে সবচেয়ে ভয়াবহ অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা।
বিক্ষোভ দমনে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিলেও শেষ পর্যন্ত তা কার্যকর করেননি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। পরে তিনি তেহরানের কাছে পারমাণবিক বিষয়ে ছাড় দাবি করেন এবং ইরানের উপকূলে একটি নৌবহর পাঠান। ট্রাম্প গত সপ্তাহে বলেন, ইরান ‘গুরুত্বপূর্ণভাবে আলোচনা করছে’। অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি জানান, আলোচনার কাঠামো প্রস্তুতির কাজ চলছে।
হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন পতাকাবাহী ট্যাংকারকে হয়রানি
ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই পৃথক এক ঘটনায় হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) একটি মার্কিন পতাকাবাহী বাণিজ্যিক ট্যাংকারকে হয়রানি করে বলে অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানান, আইআরজিসির দুটি নৌকা ও একটি ইরানি মোহাজের ড্রোন দ্রুতগতিতে এম/ভি স্টেনা ইম্পেরেটিভ নামের ট্যাংকারটির কাছে এসে সেটিতে ওঠার হুমকি দেয়।
সামুদ্রিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ভ্যানগার্ড জানায়, ইরানি নৌকাগুলো ট্যাংকারটিকে ইঞ্জিন বন্ধ করে বোর্ডিংয়ের জন্য প্রস্তুত হতে নির্দেশ দেয়। তবে ট্যাংকারটি গতি বাড়িয়ে যাত্রা অব্যাহত রাখে।
এ সময় মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস ম্যাকফল এলাকায় অবস্থান করছিল এবং ট্যাংকারটিকে নিরাপত্তা দিয়ে এগিয়ে যেতে সহায়তা করে।হকিন্স বলেন, এর ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং মার্কিন পতাকাবাহী ট্যাংকারটি নিরাপদে যাত্রা অব্যাহত রেখেছে। সূত্র: রয়টার্স
রিপোর্টার্স২৪/এসসি