নিঃশব্দ সমর্পণ
আমি তাকে ভালোবেসেছিলাম
কিন্তু সেই ভালোবাসা কোনো উৎসব ছিল না,
ছিল বরং ধানক্ষেত পেরিয়ে আসা এক দীর্ঘ বিকেল,
যেখানে আলো ধীরে ধীরে ফুরিয়ে যায়
আর পাখিরা ফেরার পথ ভুলে বসে থাকে।
সে জানত না
ভালোবাসা কখনো কখনো শব্দের আগেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে।
আমি তার সঙ্গে কথা বলতাম,
কিন্তু বেশি ভালোবাসতাম সেই সময়টুকু
যখন কথারা থেমে যেত
আর তার ঠোঁটের কোণে
একটি অনুচ্চারিত বিষাদ
পাতার মতো ঝুলে থাকত।
আমি তার হাসি ভালোবাসিনি
হাসির পরের শূন্যতাটুকু ভালোবেসেছি।
যেন বিকেলের শেষে নদীর পাড়ে
মানুষ থাকে না,
শুধু বাতাস জানে
কীভাবে জল অন্ধকার হয়ে আসে।
তার ক্লান্তি ছিল আমার কাছে
একটি পুরোনো বাড়ির মতো,
ভেতরে ঢুকলে শব্দ কমে যায়,
জানালার পাশে বসে থাকে
অগোছালো আলো।
সে পৃথিবীর কাছে এই ক্লান্তি লুকিয়ে রাখত,
আর আমি সন্ধ্যার মতো
নিঃশব্দে তা চিনে নিতাম।
আমার ভালোবাসা কোনো দাবি করেনি।
সে চাইলে আমি দূরে থাকতাম,
যেমন দূরের গ্রাম
রাত নামলে আলো জ্বালায় না,
তবু মানচিত্রে হারিয়ে যায় না।
আমি ছিলাম তার জীবনের ঝড়ের রাতে
একটি একলা প্রদীপ,
নিজে পুড়েছি
কিন্তু নাম লেখাইনি আলোয়।
আমার ভেতরে তার নাম
কখনো উচ্চারিত হয়নি।
তা ছিল ঘাসের মতো
ভোরে জন্মাত,
দিনের আলোয় চাপা পড়ত,
রাতে আবার নিঃশ্বাস নিত।
হয়তো সে কোনোদিন জানবে না
আমার জীবনের কতখানি জায়গা
নিঃশব্দে তাকে দিয়ে দিয়েছিলাম।
কিন্তু জানার প্রয়োজনও ছিল না।
কারণ কিছু ভালোবাসা
জানা হলে নষ্ট হয়ে যায়,
যেমন কুয়াশা
সূর্যের কাছে ধরা দিলে
আর কুয়াশা থাকে না।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি