রিয়াজুল হক:
বাড়ির সামনে কয়েকজন দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ করে লক্ষ্য করলাম, দূর থেকে একজন পঞ্চাশোর্ধ মানুষ দৌড়ে এগিয়ে আসছে। কাছে আসতেই বেহুঁশ হয়ে পড়ে গেল। লোকটি বেহুঁশ হয়ে যাওয়ার পর পেছন থেকেই দুজন লোক আসলো। অপরিচিত যে দুজন লোক আসলো, তারা এসে বললো যে, এই লোকটা শীতের কাপড় বিক্রি করছিল। মসজিদের এক কোণায় কাপড়ের গাইড রেখে নামাজ পড়ছিল। নামাজ শেষে দেখে, তার শীতের কাপড়ের গাইড চুরি হয়ে গেছে। এখন সবার কাছে সেই কাপড়ের খোঁজ নিচ্ছিল। তাদের কাছেও সেই খোঁজ নিয়েছে।
এরপর তো আমাদের সামনে এসে বেহুশ হয়ে পড়ে আছে। আমরা কাছে গিয়ে লোকটাকে ডাকাডাকি করলাম। পাশের বাড়ির একটা ছেলে তার মুখে পানি ছিটিয়ে দিল, খাওয়ানোর চেষ্টা করল। পারল না।
স্বাভাবিকভাবেই আমাদের সবার মনে একটু মায়া দয়া তৈরি হলো। লোকটাকে কীভাবে সাহায্য করা যায়, সেটাই ভাবছিলাম যেহেতু একটা ক্ষতির শিকার হয়েছে।
এমন সময় পাশের বাড়ির ফরহাদ নামে এক ভাড়াটিয়া এসে বলল যে, এই লোকটা কিছুদিন আগে ঠিক একই কাজ করেছিল। তারপর তাকে এক হাজার টাকা দেওয়ার পাঁচ মিনিট পর, একা একা হেঁটে চলে গেছে। এই লোকটার আসলে কিছুই হয় নাই। আমরা এখান থেকে চলে গেলে, একটু পর উনিও চলে যাবে। একা একাই সুস্থ হয়ে যাবে।
ফরহাদের কথা শুনে আমরা চলে গেলাম। পাঁচ মিনিট পরে এসে দেখি বেহুঁশ হয়ে পড়ে থাকা সেই লোক সেখানে আর নাই। শীতের কাপড়ের গাইড হারিয়ে গিয়েছে বলে যে দুইজন সার্টিফিকেট দিয়েছিল, তারাও নেই।
অবাক হওয়ার আরো বাকি ছিল। এরপর মোড়ে যেয়ে দেখি, সেই তিনজন এক চায়ের দোকানে এক কোণায় বসে চা খাচ্ছে। তখন ফরহাদের কথার শতভাগ সত্যতা ও খুঁজে পেলাম।
মানুষের মায়া দয়া, সেন্টিমেন্ট নিয়েও এখন ব্যবসা চলছে। এর ফলে যেটা হবে, প্রকৃত সাহায্যপ্রার্থী মানুষ সাহায্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবে।
লেখকঃ রিয়াজুল হক, যুগ্ম পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক।